আমি কোন জমি লিজ দেই না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী 

‘কয়েকমাস বিরতির পর আবারো নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযানে গরীব মানুষদের তেমন কোন সমস্যা না হলেও বিত্তশালীদের অনেক সমস্যা হয়। তারা লিজ নিয়েই বাড়ী তৈরি করে ফেলে। তাই আমি দায়িত্ব নেয়ার পরে লিজ দেয়া বন্ধ করেছি। আমি কোন জমি লিজ দেই না। শুধুমাত্র কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন ছাড়া অন্যকোন কাজে লিজ দেওয়া হবে না।’

আজ বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকালে নোঙর আয়োজিত “ নদী রক্ষায় প্রয়োজন সঠিক নিয়মে নদী খনন” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক এসব কথা বলেন।  

নদী ভাঙ্গন প্রসঙ্গে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক আরও বলেন, ‘আমি নদী ভাঙ্গন এলাকার লোক। তাই নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষের কষ্ট আমি জানি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আমাদের কষ্ট অনুভব করেন । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নদী শাসনের জন্য ড্রেজিং মাধ্যমে নদীর প্রসস্থতা কমিয়ে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। নদীর দু’পাড়ে জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। আমি মনে করি , কৃষি জমি রক্ষায় এখনি ক্লাস্টার ভিলেজ নির্মাণে সরকারের কাজ করা উচিত।

নদী সুরক্ষায় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি প্রায় ৩ শত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং সব জায়গায় স্থানীয়দের বলেছি আপনারা অবৈধভাবে কাউকে বালু উত্তোলন করতে দিবেন না। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিবেন। যেনতেন ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে সকল জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সুমন শামসের সঞ্চালনায় ও সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এ এম আমিনুল হক, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব মিহির বিশ্বাস, আই ডব্লিউ এম-এর সিনিয়র মোরফোলজিস্ট আব্দুস সালাম শিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ইত্তেফাক/এসআই