মিরুখালী-সাফা খালে বাঁধ কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা!

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মিরুখালী-সাফা সংযোগ লাইনের খালের চারটি স্থানে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল আটকে দিয়েছে। ফলে খালে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে খাল তীরবর্তী গ্রামের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার খালের চারটি স্থানে বাঁধ দেয়ায় খালের পানি চলাচল আটকে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়ন বন্দর হতে ধানীসাফা ইউনিয়নের ভাণ্ডারপোল এলাকা পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার খালটি একটি নৌরুট। এ খালের সাথে দুই ইউনিয়নের অন্তত ৬টি গ্রামের মানুষ নির্ভরশীল। এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ খালের চারটি স্থানে কতিপয় প্রভাবশালী কৃষি জমিতে লবণ পানির আগ্রাসন আর ভাঙনের অজুহাত দেখিয়ে বাঁধ দেয়। ফলে খালটির পানির প্রবাহ আটকে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সাথে বাঁধ দেয়া খালে কিছু প্রভাবশালী মাছ চাষ করে আসছে। গত ১০ বছর ধরে প্রবহমান খালটি এমন দুরবস্থার কবলে পড়েছে। এতে এলাকার দেড় সহস্রাধিক পরিবার ও সাড়ে ৩শ একর কৃষি জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।

পাঁচ কিলোমিটার খালের সাফা অংশের ভাণ্ডারপোল এলাকা, সাধুবাড়ি সম্মুখ ও মোসলেমের ইটভাটার সম্মুখ খালের আড়াআড়ি মাটি ভরাট করে বাঁধ দেয়া হয় কয়েক বছর আগে। পরে বাদুরা বাজার সংলগ্ন ওই খালে আরও একটি বাঁধ দেয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিবদমান দুই পক্ষে চরম বিরোধ দেখা দিলে বাঁধটি পরে কেটে দেয়া হয়। চলতি সপ্তাহে মিরুখালী অংশে বেগম ফজিলাতুন্নেছা কামিল মহিলা অনার্স মাদ্রাসা খালের ভাঙনের কবলে পড়ায় মাদ্রাসার সম্মুখ খালের সেতু লাগোয়া খালের ওপর আরও একটি বাঁধ দেয়া হয়েছে। প্রবহমান খালটির চার স্থানের বাঁধের কবলে পড়ে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। 

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আবুল কালাম বলেন, খালের ভাঙনে মাদ্রাসার স্থাপনা হুমকির মুখে। তা ছাড়া অতি জোয়ারের প্লাবনে এলাকায় লবণ পানির আগ্রাসনসহ খাল তীরের বহু বসতি পরিবার দুর্ভোগের কবলে পড়েছে। একারণে স্থানীয়রা মিলে মাদ্রাসার সম্মুখ লাইনের খালে বাঁধ দিয়েছে।

পিরোজপুর জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন হেলাল মুন্সী বলেন, মিরুখালী-সাফা লাইনের খালটি জেলা পরিষদের আওতায়। খালটি দুই ইউনিয়নে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। বাঁধ না দিলে এলাকায় ভাঙন ও কৃষি জমির লবণাক্তা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, প্রবহমান খালে বাঁধ দেওয়া বৈধ নয়। মিরুখালী-সাফা খালের চারটি স্থানে বাঁধ দেওয়ার ফলে এলাকার কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এতে খাল সংশ্লিষ্ট দুই তীরের সাড়ে ৩শ হেক্টর একর জমিতে ফসল মার খাচ্ছে। এখানকার তিন ফসলি জমি এখন এক ফসলি হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা দুই দফায় মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছি।