দ্যা আর্থ সোসাইটির আয়োজনে এবং ডাইভারসিটি ফর পিস ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ডাইভারসিটি টকস’। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার কান্তারা খানের উপস্থাপনায় বুধবার রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের আলোচনার বিষয় ছিল, 'কোভিড-১৯ প্রতিরোধে, বাদ যাবেনা কেউই'। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে চলমান অসমতা ও অসহিষ্ণুতা দূরীভূত করার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং এ সময়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা দূরীকরণ এবং টেকসই শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমাদের সকলের কি কি করণীয় হতে পারে, সে প্রসঙ্গে সম্মানিত অতিথিরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
বিশেষ এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সিভিএমের বিশেষ দূত ও এসডিজির সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিবেদক ফারজানা রূপা, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের অ্যাসিটেন্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টটেটিভ আশেকুর রহমান, হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ম্যাক্স রানি এবং গায়ক ও সমাজকর্মী জয় শাহরিয়ার।
আলোচনার শুরুতেই শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যেমন পুঁজিবাদী রাষ্ট্র থেকে কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে ঠিক একইভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশাল এক জনগোষ্ঠী প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করছে সেহেতু আমাদের রয়েছে ডাটা, ডিভাইস এবং সংযোগ প্রাপ্তির পর্যাপ্ততা এবং এ বিষয়টি মাথায় রেখেই সকল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহামারির এ সময়ে চলমান অসমতা ও অসহিষ্ণুতা দূর করার জন্য নন-এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদেরও আর্থিক সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করা হয় এবং সকল প্রকার বৈচিত্র্যকে নিশ্চিত করতে করা হয়েছে সকলের সমান ন্যায্য পাওনা আদায়ের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। শহর অঞ্চলগুলোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও সমপরিমাণ বেতন, বই এবং অবকাঠামো তৈরিতে বাংলাদেশ সরকার যে মহামারির এ সময়ে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন। যদিও কোভিড পরবর্তী সময়ে আমরা নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হব কিন্তু আমরা আমাদের পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সকল বাঁধা অতিক্রম করতে পারব বলে আশা করছি।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মহামারির এ সময়ে চলমান অসমতা ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলো তুলে ধরেন সিভিএমের বিশেষ দূত ও এসডিজির সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরের কর্মী থেকে শুরু করে যারা বিভিন্ন এস এম ই ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহামারির এ সময়ে আমাদের তরুণ সমাজের সহযোগিতায় বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় সাহায্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে যেন কেউই সরকারের সহযোগিতা থেকে বাদ না যায়।
মূলত কোভিড-১৯ সময়ে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে ইউএনডিপি বাংলাদেশ কি কি কাজ করে যাচ্ছে সে বিষয়টি তুলে ধরেন জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের অ্যাসিটেন্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টটেটিভ আশেকুর রহমান। তিনি কোভিড-১৯ রিকভারি প্রসেসের কথা জানান, যেখানে ইউএনডিপি বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে বিবেচনা করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য সহায়তা ,জীবনরক্ষা এবং তথ্য সহযোগিতা এ চারটি বিষয়ে বিশেষ প্রোগ্রাম করা হয়েছে যেন সকলের মাঝেই এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তাছাড়া, ৩০টিরও বেশি শহরে ২২ হাজার পরিছন্নতা কর্মীকে ইউএনডিপি) বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করেছে।
মহামারির এ সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা জানান একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিবেদক ফারজানা রূপা। তিনি জানান, অসহিষ্ণুতা যেন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে না পরে, সেক্ষেত্রে গণমাধ্যম মানুষের মনে ইতিবাচক ধারনা তুলে ধরতে সাহায্য করেছে। চিকিৎসকসহ যারা মহামারির এ সময়ে কাজ করে যাচ্ছে তাদের গল্পও গণমাধ্যমের সহায়তায় সকলের মাঝে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
কিভাবে নিজ সম্প্রদায়ের সকলের উদ্দেশ্যে কাজ করেছেন সে বিষয়ে জানান হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ম্যাক্স রানি। কোভিড-১৯ সময়ে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি নিজ উদ্যোগে হিজড়া জনগোষ্ঠীদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি সমাজের সকলকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান করেন।
আলোচনার একেবারেই শেষ পর্যায়ে , গায়ক ও সমাজকর্মী, জয় শাহরিয়ার কোভিড-১৯ সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি নিজে থেকে কিভাবে এগিয়ে এসেছেন সেটি তুলে ধরেন এবং একই সাথে তিনি সকল প্রকার অসমতা ও অসহিষ্ণুতা থেকে দূরে থাকার জন্য সকলকে আহ্বান জানান। এছাড়া , মহামারির এ সময়ে তিনি বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে কিভাবে আমাদের পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন সে বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তাছাড়া, বিশেষ এ আয়োজনে সবশেষে উপস্থাপক কান্তারা খান বলেন যেহেতু সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনও কোভিড-১৯ সময়ে সকলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে সেহেতু আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারবে আমাদের বর্তমান সময়ের সকল প্রকার অসমতা ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি