রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সোনালুরকুটি উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সৌরভ রায়ের (১৬) মাথা ফাটিয়ে দেয়া প্রধান শিক্ষক গোলজার হোসেনকে পুলিশ ছেড়ে দেয়ায় আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে ছাত্র অভিভাবক ও এলাকাবাসী। বুধবার তারা আবারো প্রধান শিক্ষক গোলজার হোসেনকে গ্রেফতারপূর্বক অপসারণ দাবি জানিয়ে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে রাজারহাট-নাজিমখান সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে ৬ ঘণ্টা পর বিকাল ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ তুলে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সৌরভ রায় বিদায়ী অনুষ্ঠানের চাঁদার ১০০ টাকা কম দেয়ায় প্রধান শিক্ষক গোলজার হোসেন তাকে কক্ষে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করার একপর্যায়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করলে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয়। তাত্ক্ষণিক সহপাঠীরা তাকে রাজারহাট হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সৌরভ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকার বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ছুটে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে তার অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাজারহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক গোলজার হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মঙ্গলবার গভীর রাতে গোলজার হোসেনকে পুলিশ থানা থেকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি সকালে এলাকায় জানাজানি হলে আবারো ছাত্র, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ফুঁসে উঠে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গোলজার হোসেনকে গ্রেফতারপূর্বক অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে রাস্তার দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধানের নেতৃত্বে থানা অফিসার ইনচার্জ কৃষ্ণ কুমার সরকারসহ একদল পুলিশ এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুনুর মো. আক্তারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে দফায় দফায় বৈঠক শেষে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গোলজার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
এ ব্যাপারে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কৃষ্ণ কুমার সরকার বলেন, মুচলেকা নিয়ে গোলজার হোসেনকে মঙ্গলবার রাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। প্রধান শিক্ষককে ছেড়ে দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করার আশ্বাসে বিক্ষুব্ধরা রাজারহাট-নাজিমখান সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।