বাঁশখালীর ৯ ইউনিয়নের সমস্যা

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় প্রায় ৯টি ইউনিয়নের ৪ লাখ মানুষ বঙ্গোপসাগর ও শঙ্খ নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকে। ৯১-এর ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সমগ্র উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের পর সরকার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজে হাত দেয়। দুঃখের বিষয়, শঙ্খ নদীর নিম্নমানের লবণ মিশ্রিত বালি ব্যবহার করায় ব্লকগুলো টেকসই হয়নি। ফলে প্রেমাশিয়া, মৌলভিপাড়া কদম রসুল এলাকায় বেড়িবাঁধ দেবে যায়। এদিকে ৩নং খানখানাবাদ ইউনিয়ন যোগযোগব্যবস্থায় এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই ইউনিয়ন বাঁশখালী জেলার উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত। রায়ছটা ঈশ্বরবাবুর হাট থেকে প্রেমাশিয়া নয়াহাট পর্যন্ত উপকূলীয় সংযোগ সড়কটি ৩নং খানখানাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছাড়াও পুরো ৩৭ কিলোমিটারব্যাপী উপকূলীয় এলাকা, বাহারছড়া, রত্নপুর, গণ্ডামারা, ছনুয়া, সরল, পাশ্ববর্তী ২নং সাধনপুর ইউনিয়নের জন্য উপকূলীয় জনগুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক বিধায় দুর্যোগ চলাকালীন যাতায়তের অতীব জরুরি যোগাযোগ মাধ্যম। এর আশু সংস্কার অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাটির কিছু অংশ কাদামাটি আবার কিছু অংশ ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হওয়ার পর কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অবহেলায় বন্যা ও নদী ভাঙন কবলিত একটি জনপদে পরিণত হয় এলাকাটি। প্রেমাশিয়ার আশেপাশে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় এবং যাতায়াতের ভোগান্তির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। তাই অবিলম্বে রাস্তাগুলো জরুরিভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এস এম ফরিদুল আলম

সদস্য, কেন্দ্রীয় কার্যানির্বাহী পরিষদ, উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, দামপাড়া, চট্টগ্রাম