জানুয়ারি মাস প্রায় শেষের দিকে। স্কুলগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া সমপন্ন হয়েছে। বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীরা পেয়েছে নতুন বই। শুরু হয়েছে শ্রেণি কার্যক্রম। সেইসঙ্গে বেড়েছে তাদের ব্যস্ততা। দিনভর কোচিং, ক্লাস, প্রাইভেট নিয়েই ব্যস্ত থাকছে শিশুরা। যা থাকবে বছরজুড়ে! সরকার সৃজনশীল পদ্ধতির প্রবর্তন করেছে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, অনুধাবন ও বিশেষণ ক্ষমতা সৃষ্টি ও তা প্রয়োগের লক্ষ্যে। কিন্তু সৃজনশীল মানুষ হওয়ার সুযোগ কি তারা পাচ্ছে? ঘুম থেকে জেগেই কোচিংয়ে যাও, সেখান থেকে এসেই স্কুল, আবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়। এরপর গাইড থেকে পড়াগুলো মুখস্থ কর। অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে এতটাই চাপে রাখছেন যে তারা নিজের মতো ভাবতে পারা দূরে থাক বাইরে খেলার সময়টুকু পায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব শিশু মানসিক চাপ নিয়ে পড়াশোনা করে তাদের চেয়ে যারা আনন্দ নিয়ে পড়ে তাদের মেধার বিকাশ ভালো হয়। বাইরে খোলামাঠে খেলার সুযোগ পায় না বলে তাদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গাইড ও কোচিং বন্ধে পদক্ষেপ নিলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অভিভাবকরাও ভাবছেন কোচিং, গাইড ছাড়া তাদের সন্তান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। ফলস্বরূপ শিশুরা একবোঝা বই, গাইড কাঁধে বহন করে দৌড়াচ্ছে কোচিং-প্রাইভেটে। এভাবেই অভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যত্ আলোকিত করতে গিয়ে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছেন। শিশুর মেধা বিকাশের স্বার্থে গাইড ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার এখনি সময়। অভিভাবকদেরও বুঝতে হবে মুখস্থ আর ধার করা বিদ্যায় সন্তান হয়তো ভালো ফল করছে কিন্তু জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারছে না। শেখার জন্যই তারা শিখছে, জানার জন্য না। অথচ নিজেরা ভেবে যে শিক্ষাটা তারা পাবে সেটা হবে দীর্ঘমেয়াদি এবং সময়োপযোগী। সে সুযোগটা তৈরি করে দিতে হবে অভিভাবকদেরই।
জান্নাতুল ফেরদৌস, কুুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
০