স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই কর্মকর্তার পাঁচ আত্মীয়কে দুদকে তলব

দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন দম্পতির ৫ আত্মীয়কে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন আবজাল হোসেনের দুই ভাই এবং আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানম এর তিন ভাইয়ের নাম। তলবকৃত ওই পাঁচজনই বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত। গতকাল বুধবার দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলম স্বাক্ষরিত তলবী নোটিস তাঁদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি এই ৫ জনকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

দুদকের পাঠানো নোটিসের এই ৫ জন হলেন, আবজালের দুই ভাই ফরিদপুর টিবি হাসপাতালের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট বেলায়েত হোসেন ও জাতীয় অ্যাজমা সেন্টারের হিসাব রক্ষক লিয়াকত হোসেন। অপরদিকে আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানমের তিন ভাই হলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক রকিবুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী বুলবুল ইসলাম এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অফিস সহকারী শরিফুল ইসলাম।

দুদক সূত্র জানায়, আবজাল হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রুবিনা খানম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার সাবেক স্টেনোগ্রাফার। এখন তিনি রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্যবসা করেন।

দুদক জানায়, রুবিনা খানমের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করছে দুদক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর মধ্যে তলব করা হয়েছে। এ দম্পতির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হলে তাদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দুদক। গত সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সামসুল আলম তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পুলিশের বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর নোটিস পাঠায়।

দুদকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবজাল দম্পতির নামে রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচতলা বাড়ি আছে। ১৬ নম্বর রোডে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি। উত্তরার ১১ নম্বর রোডে রয়েছে একটি প্লট। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ও ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাদের অঢেল সম্পদ। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে তাঁদের বাড়ি। দুদক সেই বাড়ির সন্ধানও পেয়েছে।