রাজবাড়ী-১ (সদর-গোয়ালন্দ) আসন

ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত বিএনপি

নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নিজ অবস্থান গুছিয়ে রাখতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি দলের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজবাড়ী-১ আসনে (সদর-গোয়ালন্দ) জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। পুনরুদ্ধার করতে ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। রাজবাড়ী-১ আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে। ১৯৯৬ সালের পর বিএনপি একবার মাত্র ২০০১ সালে এই আসনে জয়লাভ করেছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেরই শক্ত অবস্থান আসনটিতে। বরাবরই আসনটি দখলে রয়েছে আওয়ামী লীগের।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কেরামত আলী নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ ছাড়া নৌকা প্রতীক পেতে মাঠে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী মর্জি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী কামরুন নাহার চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম নওয়াব আলী। পাশাপাশি আসনটি পুনরুদ্ধারে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ খালেক। অপরদিকে, প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি মাঠে রয়েছে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাদত হোসেন মিল্টন।

রাজবাড়ী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বর মাসের শেষে হবে। নির্বাচন কমিশন এমনটাই ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রীত্ব দিয়েছেন এ জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার নির্বাচনী এলাকায় আমি যে সকল উন্নয়ন করেছি তাতে আমার বিশ্বাস এলাকার মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। তিনি আরো বলেন, বিগত ৯ বছরে রাজবাড়ী-১ আসনে স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, ব্রিজ-কালভার্ট, পিটিআই ভবন, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নির্বাচন অফিস, নতুন জেলখানা, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বর্তমান সরকারের বহু উন্নয়ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১০০ শয্যা থেকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, ৩৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প, রাজবাড়ী বিদ্যুতের গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপন, মহাসড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। যা আগামী নির্বাচনে দলের নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শেখ হাসিনা জরিপের মাধ্যমে যাকেই নৌকা উপহার দেবেন ইনশাআল্লাহ তাকেই আমরা বিজয়ী করবো। জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা আছে তারা নৌকায় ভোট দিয়ে আবারো আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনবে।

রাজবাড়ী জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এমএ খালেক-আসলাম গ্রুপের মধ্যে বিরোধ থাকায় জেলা বিএনপি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। দায়সারাভাবে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করতে দেখা গেছে। অনেক সময় পুলিশি হামলা ও বাধার ভয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সীমিত আকারে ওইসব কর্মসূচি পালন করেছে দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী-১ আসনের কোনো এলাকায় বিএনপির তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা দেখা যায়নি।

রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমি রাজবাড়ী-১ আসনে (সদর-গোয়ালন্দ) ২০০১-২০০৭ সাল পর্যন্ত একবার সংসদ সদস্য ও রাজবাড়ী পৌরসভার তিনবার মেয়র নির্বাচিত হই। এ আসনে আমার জনপ্রিয়তা ও একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিশেষ করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিষ্ণুতা ছিল নির্বাচনী এলাকায়। আশাকরি দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে এবং এটা আমি বিশ্বাস করি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে মানুষ ভোট দিয়ে পুনরায় আমাকেই এমপি নির্বাচিত করবে এবং এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সম্ভব হবো। তিনি আরো বলেন, জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। এই নির্বাচনে আমাদের দলের সকল নেতাকর্মী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে  ঐক্যবদ্ধ আছে।

এ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ খালেক নির্বাচনী মাঠে তত্পর রয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক জেলা বিএনপির সকল নেতৃবৃন্দ নিয়ে সার্বক্ষণিক চালিয়ে যাচ্ছেন সভা-সমাবেশসহ নির্বাচনী প্রচারণা। নিয়মিতভাবে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। ১৯৭৮ সাল থেকেই রাজবাড়ী জেলায় বিএনপির সুসময়-দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছেন। আশাবাদী এ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র তিনিই পাবেন। তিনি বলেন, আমাকে বেগম জিয়া মনোনয়ন দিলে বিএনপি এই আসনটি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া জানান, রাজবাড়ী-১ আসনে (সদর-গোয়ালন্দ) আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বলিষ্ঠভাবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ আসনে পদ্মা নদীর ভাঙন প্রবণতা এলাকায় বেকারত্ব, চিকিত্সা, নারী শিক্ষায় অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠাতা ও জেলায় শিল্পায়নের প্রত্যয় নিয়ে তিনি নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয় যাচ্ছেন। তিনিও আশাবাদী, দলীয় মনোনয়নে ধানের শীর্ষ প্রতীকে নির্বাচনে জয়যুক্ত লাভ করে বিএনপির এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, এ আসনটি পদ্মা নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ভাঙন রোধে স্থায়ীকরণ ব্যবস্থা, দরিদ্রতা দূরীকরণে প্রকল্প বাস্তবায়ন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শাহাদত হোসেন মিল্টন জানান, রাজবাড়ী-১ আসনটি ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আসনটি হাতছাড়া হয় জাতীয় পার্টির। এবার আসনটি পুনরুদ্ধারে দলের প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, এরশাদের শাসনামলে শহর রক্ষা বাঁধ, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণ, উপজেলা পরিষদ গঠন, জেলা পরিষদ সক্রিয় করাসহ অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে রাজবাড়ী-১ আসনের মানুষের মনে এখনও এরশাদ রয়েছেন। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন মিল্টন। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে নিশ্চয়ই এ আসনে বিজয়ী হবো- ইনশাল্লাহ।