ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনগত বাধা দূর হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ওয়ার্ডসমূহের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হতে কোনো বাধা থাকল না। এই দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের উপর আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নির্বাচনে তফসিল বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন।
এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী মাইনুল হাসান। তিনি বলেন, রিট আবেদনকারীর পক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত না থাকায় (ডিসমিসড ফর ডিফল্ট) নির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রুল খারিজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন যখন সিদ্ধান্ত নেবেন তখনই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচনের পুনঃতফসিল হবে। শিগগির এটি করা হবে। গতকাল বুধবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনী তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে তিনটি রিট করেন উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। ওই রিটের প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।