কুমিল্লায় তুচ্ছ ঘটনায় হাজী আবদুর রউফ ভূঁইয়া (৮৬) নামে সাবেক মেম্বারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া জয় চন্দ্র ঘোষ (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে বিরোধ মীমাংসা করতে গেলে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে আবদুর রউফকে হত্যা করা হয়। একই দিন জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা গ্রামের কালি মন্দিরের পাশে মাটিচাপা অবস্থায় স্কুলছাত্র জয় চন্দ্র ঘোষের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুর রউফ গতকাল সকালে তার বাড়ির দুই যুবক জাহাঙ্গীর ও হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ধান মাড়াই নিয়ে উত্তেজিত হলে তাদের বিরোধ মীমাংসা করতে যান। এ সময় হাবিবুর লাঠি দিয়ে আবদুর রউফের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলার কংশনগর এলাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি এসএএম শাহজাহান কবির জানান, এ ঘটনায় হাবিবুর নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে গতকাল সকালে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা কালিমন্দিরের পাশে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় লাশের ডান হাতের অংশবিশেষ মাটির উপরে দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্র জয় চন্দ্র ঘোষ ওই উপজেলার নবিয়াবাদ গ্রামের অমর চন্দ্র ঘোষের ছেলে। সে পার্শ্ববর্তী চান্দিনা উপজেলা সদরের চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গত ৯ জানুয়ারি সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় জয়।
দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার জানান, ‘অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর লাশ মন্দিরের পাশে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।’