ভাণ্ডারিয়ায় বৃহস্পতিবার বিনম্র শ্রদ্ধা এবং যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সহধর্মিনী এবং ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিমিটেডের পরিচালকমণ্ডলীর সাবেক চেয়ারম্যান মহীয়সী মাজেদা বেগমের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সকালে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিদ্যালয় মিলনায়তনে স্মরণ সভা, মিলাদ মাহফিল এবং মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুজ্জামান মন্টুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয়পার্টি জেপির উপজেলা যুগ্ন আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেপির উপজেলা সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ও সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন শিক্ষক আবুয়াল হোসেন, ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য জামাল উদ্দিন লিটন প্রমুখ। পরে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইউনুস আলী আকন।
এদিকে পৃথকভাবে দুপুরে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উদ্যোগে কলেজ মিলনায়তনে মহীয়সী মাজেদা বেগমের কর্মময় জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, হামদ, নাথ এবং মরহুমার রহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় কলেজ অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন মামুনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপাধ্যক্ষ মো. আবু জাফর, সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন খান, প্রভাষক মুরাদ হোসেন, মো. নুরুল হক হাওলাদার, কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কিরণ চন্দ্র বসু, শিক্ষার্থী মঞ্জীলা আক্তার, রুমানা আক্তার, সাদিয়া আক্তার ও নিলা রানী প্রমূখ। পরে মরহমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন কলেজ শিক্ষক মাওলানা আমিন খান।
আরও পড়ুনঃ গাইবান্ধা-৩: উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের আহ্বান ইসি সচিবের
পৃথকভাবে উভয় সভায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, ‘মহীয়সী মাজেদা বেগম শুধু একটি নাম বা একজন নারী নন। তিনি একদিকে একজন সফল স্ত্রী, সফল মা, অন্যদিকে তৎকালীন সময়ে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রার পথিকৃৎ। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, মোসাফির কলাম লেখক, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বাধীন বাংলার অগ্রদূৎ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে অর্থাৎ তার স্বামীকে একদিকে তার কাজে সব সময় উৎসাহ জুগিয়েছেন, অন্য দিকে ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতেও ছিলেন বিশেষ তৎপর। মাজেদা বেগমের জীবন যাপন ছিল সাদামাটা। তাই তোমরা সবাই তার জীবনাদর্শ অনুকরণ করে এই ভাণ্ডারিয়ায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এটাই তার মৃত্যুবার্ষিকীতে তোমাদের প্রতি আহবান রইলো।’
ইত্তেফাক/নূহু