কয়ড়া চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বর্ষা এলেই হাঁটুপানি পেরিয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫৫

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি নয়, ২১৮ শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিনের এক কঠিন পরীক্ষা। শ্রেণিকক্ষে পৌঁছানোর আগে তাদের পাড়ি দিতে হয় হাঁটুসমান পানি। কাঁধে স্কুলব্যাগ, হাতে জুতা এভাবেই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে কোমলমতি শিশুরা।

এ সময় কারো পোশাক ভিজে যায়, কারো হাত-পা কাদায় মাখামাখি। অথচ এটি কোনো হাওর বা দুর্গম চরাঞ্চল নয়, উপজেলা সদরের অনতি দূরে স্কুলটি। তবু সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের পথ ও মাঠ তলিয়ে যায়।

অভিভাবক আব্দুল হামিদ জানান, বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে যাতায়াতের কারণে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন আমরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আশপাশে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় ও মাঠে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া কষ্ট হয়। এ বিষয়ে উপজেলায় এবং ইঞ্জিনিয়ার অফিসে কথা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত এর সমাধান হবে। তাছাড়া স্থানীয়ভাবেও এটা সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের যাওয়া আসা কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের কাছে আবেদন দিয়েছেন। আমরা সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তাছাড়া চরপাড়া গ্রামবাসীও এই জলাবদ্ধতা দূরকরণে আমাদের সহযোগিতা করবে বলে তারা আশা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানান, কয়ড়া চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াত সমস্যা তাদের নজরে রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
ইত্তেফাক/এসএএস