ইতালীয় চ্যাম্পিয়ন জুভেন্তাসে যোগ দেওয়ার পর প্রথম শিরোপা জয় করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শুধু জিতেই ক্ষান্ত হননি তিনি, ইতালিয়ান সুপারকাপ জয়ের ক্যানভাসটা রাঙালেন ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে।
সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে এসি মিলানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে সমতায় থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে জুভেন্তাস। রোনালদোর গোলটি আসে ম্যাচের ৬১ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে মিরালেম পিয়ানিচের হাওয়ায় ভাসানো বলে মাথা ছুঁইয়ে মিলানের জালে জড়ান পর্তুগীজ এই খেলোয়াড়। ম্যাচের বাকি সময়ে এই ব্যবধান ধরে রেখেই শিরোপা জয় নিশ্চিত করে জুভেন্তাস। মৌসুমে এটি জুভেন্তাসের প্রথম শিরোপা জয়।
পর্তুগীজ তারকা ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘জুভেন্তাসে এটাই আমার প্রথম শিরোপা। এটি জয় করতে পেরে আমি দারুণ খুশি। সত্যিকার অর্থেই আমি এটি অর্জন করতে চেয়েছিলাম। ২০১৯ সালটা এর চেয়ে ভালোভাবে শুরু করতেই পারতাম না। এটা কেবল শুরু, এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই আমরা। এই শিরোপার মাধ্যমে আমরা পরবর্তী শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারি।’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্তাস এবং পর্তুগাল; এই চারটি দলের হয়ে রোনালদোর এটি ২৬তম শিরোপা।
সৌদি আরবের তীব্র দাবদাহ বেশ বেগ ভুগিয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দেরই। এ নিয়ে রোনালদো বলেন,‘এটা খুবই কঠিন ম্যাচ ছিল। এখানকার তাপমাত্রা খুবই বেশি ছিল এবং এই পরিস্থিতিতে খেলা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল আমাদের জন্য। তবে আমরা ভালো খেলেছি, অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করেছি এবং অবশ্যই জয়সূচক গোলটি করে আমি খুশি।’
এই শিরোপা জয়ের পর রোনালদোর পরবর্তী লক্ষ্য সিরি আ। তিনি জানান, তা অর্জন করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে তার দলকে। তিনি বলেন,‘সিরি আ’ই সবসময় জুভেন্তাসের প্রধান লক্ষ্য। যদিও আমরা তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছি, তারপরও এই প্রতিযোগিতাটি বেশ লম্বা সময় ধরে চলবে। এবং এটা বেশ কঠিনই হতে যাচ্ছে। আর তাই আমাদের কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে।’
তীব্র গরমে খেলাটা কঠিন ছিল, এমনটা মানছেন জুভেন্তাস কোচ ম্যাসিমিলানো অ্যালেগ্রিও। কিন্তু দিন শেষে শিরোপা জয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন তিনি। অ্যালেগ্রি বলেন,‘আজ প্রচণ্ড গরম ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমরা জয়লাভ করেছি।’
ম্যাচের নায়ক রোনালদো সম্পর্কে অ্যালেগ্রি বলেন,‘রোনালদো সম্পর্কে বলতে গেলে একটি কথাই সবসময় বলতে হয়, বড় ম্যাচে গোল করার ক্ষমতা তার আছে। এ কারণেই আমরা তার সাথে চুক্তি করেছি।’ রাই স্পোর্টসকে অ্যালেগ্রি জানান পুরো দলই ভালো খেলেছে বলে মনে করেন তিনি,‘সে দারুণ একটি গোল করেছে এবং খেলায় তার উপস্থিতিও ছিল দারুণ। তবে আমার মতে পুরো দলই বেশ ভালো নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে।’
দলের প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাওয়ার মানসিকতার প্রশংসাও ঝরলো অ্যালেগ্রির কণ্ঠে,‘সব মিলে আমি এই দলের লড়াইয়ের মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করি। এমনকি কয়েক মিনিটের জন্য যারা বেঞ্চ থেকে মাঠে নামে তারাও যথাযথ মনোভাবটা দেখায় এবং পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ইচ্ছাটা রাখে।’