রংপুরে মিস্টার

তার অপেক্ষায় প্রহর গুণছিল রংপুর রাইডার্স। এমনটা বললে অত্যুক্তি হবে না। ছয় ম্যাচের চারটিতে হেরে ব্যাকফুটে এখন বিপিএলের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। বিপর্যস্ত এই  সময়ে এবি ডি ভিলিয়ার্সের মাঝেই ত্রাতার ছবি খুঁজছে রংপুর। তাকে ঘিরেই আশার বীজ বুনছে দলটি। দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাবেক অধিনায়কের উপস্থিতি দলকে উজ্জীবিত করবে এবং টানা তিন হারের ব্যর্থতা ভুলে দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়াবে রংপুর, এমনটাই আশা তাদের।

গতকাল সকালে বাংলাদেশে এসেছেন ডি ভিলিয়ার্স। সিলেটে পৌঁছেছেন সকাল ১০টার পর। পূর্ব সূচি অনুযায়ী বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের ছয় ম্যাচ পর আসার কথা ছিল ৩৬০ ডিগ্রি খ্যাত এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান।

সময়ের অন্যতম সেরা বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্স। গত বছর আচমকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও দিব্যি খেলে বেড়াচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজ টি-২০ লিগ। এবারই প্রথম বিপিএল খেলতে এসেছেন তিনি।

বিপিএলে এসেই দলকে পাচ্ছেন সংকটাপন্ন অবস্থায়। সেরা চারে উঠা কঠিন হয়ে পড়েছে রংপুরের। ছয় ম্যাচ খেলে জয় মাত্র দুটি। সেরা চারে খেলার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে অবশিষ্ট ছয় ম্যাচের অন্তত চারটি ম্যাচ জিততেই হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে। এই কঠিন চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিতে ব্যাটসম্যানরাই দলটির বড় ভরসা। আগামীকাল সিলেটে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে রংপুর।

ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলসরা থাকলেও রংপুরের ব্যাটিং লাইন এখনও জ্বলে উঠেনি। এবার এই দলে যুক্ত হলেন ডি ভিলিয়ার্সের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। নিশ্চিতভাবেই মাশরাফির দলের ব্যাটিংয়ে শক্তি বাড়ছে। তবে ২২ গজে গেইল-ডি ভিলিয়ার্সদের আগুনে ব্যাটিংই এখন রংপুরকে টিকিয়ে রাখতে পারে বিপিএলে।

ক্যারিয়ারে ২৬১টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন উইকেটের চার পাশে নান্দনিক শটস খেলতে সিদ্ধহস্ত ডি ভিলিয়ার্স। এই ফরম্যাটে প্রায় সাত হাজার রান, তিনটি সেঞ্চুরি ও ৪৭টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক তিনি। বিপিএলে ব্যাট হাতে ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের ভয়ঙ্কর রুপ দেখার অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

একই সঙ্গে তার খেলার অপেক্ষায় রংপুরের ক্রিকেটাররা। বিপিএলের শুরুতে দলটির ইংলিশ ক্রিকেটার রবি বোপারা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘গেইল ও ডি ভিলিয়ার্স দুইজনই বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান, তাদের ব্যাটিং লাইনআপে পাওয়াটা হবে প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। প্রথম ছয়টি ম্যাচের পরই ডি ভিলিয়ার্সের আসার কথা রয়েছে এবং আমরা জানি, পরবর্তী রাউন্ড সিলেট ও চট্টগ্রামের ভালো উইকেটে খেলা হবে। এটা আমাদের জন্য খুবই ভালো খবর, কারণ তিনি সেরা উইকেটগুলোতে খেলতে যাচ্ছেন। যদি তিনি (ডি ভিলিয়ার্স) চট্টগ্রামে সেট হয়ে যান, তাহলে বোলারদের জন্য শুভ কামনা থাকল।’