বাউন্সি উইকেটের তকমা হারিয়েছে সিলেট

বাউন্সি উইকেটের জন্য শুরু থেকেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একটা কদর, সুনাম ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচেও দলগুলো কয়েকজন পেসার খেলাতো এই স্টেডিয়ামে; কিন্তু গত কিছুদিনে নয়নাভিরাম প্রকৃতির এই স্টেডিয়ামের উইকেটের আচরণ বদলে গেছে। পেসারদের গতিময় বাউন্সের পরিবর্তে স্পিনারদের ঘূর্ণি জাদুর ক্ষেত্র হিসেবে ধরা দিচ্ছে সিলেটের উইকেট।

বিপিএলের সিলেট পর্বে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ হয়েছে। যার মধ্যে তিনটি ম্যাচই ছিল লো-স্কোরিং। প্রথম ম্যাচে খুলনা টাইটান্সের ১২৮ রানের জবাবে রাজশাহী কিংস অল-আউট হয়েছে ১০৩ রানে। পরের ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের ইনিংস গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৬৮ রানে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৬৯ রান তুলেছিল ১১.১ ওভারে। তৃতীয় ম্যাচে রাজশাহীর ১৩৬ রানের বিপরীতে শক্তিশালী ঢাকা ডায়নামাইটস ১১৬ রানের বেশি যেতে পারেনি। তিনটি ম্যাচেই ছিল স্পিনারদের রমরমা দাপট। বুধবার চতুর্থ ম্যাচে রানের দেখা মিলেছে সিলেটে। স্বাগতিকরা ১৮৭ রান তুলেছিল। রংপুর রাইডার্স ম্যাচ হারলেও ১৬০ রান করেছিল।

অথচ এই সিলেটেই বিপিএলের পঞ্চম আসরে অনেক রানের ম্যাচ দেখা গিয়েছিল। ২০২, ২০৫ রানের মতো বড় স্কোরও উঠেছিল। সেই উইকেটই এখন লো বাউন্স, টার্নিং এবং মন্থরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

যা দেখে হতাশ সিলেটের স্থানীয় ক্রিকেটাররাও। সিলেট থেকে উঠে আসা জাতীয় দলের এক সাবেক ক্রিকেটার গতকাল খেদোক্তি জানালেন এভাবে, ‘ভাই, এমন সবুজ-সুন্দর স্টেডিয়াম, চা বাগানে ঘেরা স্টেডিয়াম দিয়ে আমরা কি করবো, যদি মাঠে ভালো খেলা না হয়। মাঠে ভালো খেলা হতে হবে। সেজন্য ভালো উইকেট দরকার।’

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহও আক্ষেপ করছেন উইকেটের আচরণ বদলে যাওয়া দেখে। তার মতে, উইকেটের সঠিক পরিচর্যা হচ্ছে না। ব্যবহার হচ্ছে কম। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘যারা আছেন দায়িত্বে, যারা উইকেট তৈরি করছেন তারা কিভাবে করছেন তা তো বলতে পারবো না। আমরা সবসময় সিলেটে জাতীয় লিগের সময় অন্তত তিনটা পেস বোলার খেলিয়েছি। উইকেটটা বদলে গেছে। উইকেট এখন স্পিন উইকেট হয়ে গেছে। আমি জানি না, কেন এমন হলো। এর আগে আমরা যখন খেলেছি দেখেছি সারা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পেস, বাউন্সের উইকেট ছিল সিলেটে।

উইকেট এখানে কম ব্যবহার হয়। উইকেটের পরিচর্যা কম হচ্ছে হয়তো। উইকেটের ব্যবহার কম হচ্ছে বলে এমন হতে পারে আমার মনে হয়।’

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের নায়ক বাঁ-হাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র অবশ্য আশাবাদী পরের ম্যাচগুলোতে রান হবে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন গত জাতীয় লিগ খেলছি তখনো খারাপ ছিল না। এখন একটু বেশি স্পিন করছে দেখলাম। লো বাউন্স, লো স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে। তবে শেষ ম্যাচে ভালো রান হয়েছে। আশা করছি আরও চারটি ম্যাচ আছে, সেখানে ভালো ক্রিকেট দেখা যাবে।’

গত বছর জুনে সিলেট স্টেডিয়ামের কিউরেটর হিসেবে ভারতীয় সঞ্জীব আগারওয়ালকে নিয়োগ দিয়েছিল বিসিবি। তারপর সিলেটে জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ দল। বিপিএলেও রান হচ্ছে না। সিলেট পর্বের প্রথম দিনে বাজে অবস্থা দেখে পরদিন সকালেই মিরপুরের কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে বিসিবি।

আজ ও আগামীকাল দুইটি করে চারটি ম্যাচ হবে সিলেটে। হয়তো কিছুটা রানও বাড়বে। তবে সিলেট স্টেডিয়ামের উইকেট বাউন্সি উইকেটের তকমাটা হারিয়ে ফেলছে ধীরে ধীরে— এটা এখন স্পষ্ট।