প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন এবং অটিজম নিয়ে তার বিভিন্ন বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হয়েই হবিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশান ফর অটিজম এন্ড সোশ্যাল ইমপ্রুভমেন্ট প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠে।
আর একজন অটিজম আক্রান্ত শিশুর পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই ২০১৪ সালে গড়ে ওঠে এটি। এরপর থেকেই সবাই মিলে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো যায় কিনা, সেইরকম মনোভাব থেকেই পথ চলা শুরু হয়। এমনটিই জানালেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কামরুজ্জামান রুবেল।
অটিজম নিয়ে কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জ ছিলো এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, অটিজম নিয়ে কাজ করা আমাদের সমাজে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সমাজে অনেক কুসংস্কার রয়েছে। সেই কুসংস্কারের মধ্যে অটিজম নিয়ে কাজ করা খুবই কঠিন। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে আসতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যখন অটিজম আক্রান্ত শিশুদের তথ্য খুঁজতে যাই, তখন তাদের পরিবার আমাদেরকে বলে না, বলতে চাই না। পরিবারে অটিজম আক্রান্ত শিশু আছে এটি তারা লুকিয়ে রাখে। এমনও হয়, আমরা শিশুটিকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তার পরিবার সাড়া দেয় না।
আরো পড়ুন: 'কাজের আরো অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড'
অটিজম শিশুদের পরিচয় গোপন করা হচ্ছে কেন-এর পেছনের কারণ বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গোপন রাখার কারণ হচ্ছে-অটিজম আক্রান্ত শিশু আছে এমন পরিবারের মেয়েদের যাতে বিয়ে দিতে কোন সমস্যা না হয়। কারণ অটিজম শিশু এমন পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দিতে সামাজিকভাবে সমস্যা হতে পারে।
তবে আমাদের সমাজ অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটা ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করছে না এমনটি উল্লেখ করেন কামরুজ্জামান রুবেল।
প্রতিষ্ঠানটির পেছনে রয়েছেন একদল তরুণ, যারা পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে যে উপার্জন করেন তার নির্দিষ্ট পরিমাণ একটা অর্থের মাধ্যমে এটি চালাচ্ছেন।
হবিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশান ফর অটিজম এন্ড সোশ্যাল ইমপ্রুভমেন্ট প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২০ অর্জন করেছে। তরুণদের কাজের স্বীকৃতির এমন একটি প্লাটফর্ম এর জন্য সিআরআই ও ইয়াং বাংলাকে অভিনন্দন জানান তিনি এবং সিআরআই চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ধন্যবাদ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, অটিজম শিশুদের জন্য স্কুল ও স্পেশাল এডুকেশন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির সাথে ২১ জন সদস্য কাজ করছেন। জেলার সকল অটিজম শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত ও প্রত্যেক উপজেলায় সাবসেন্টার করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
ইত্তেফাক/এএএম