৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের শরিক জামায়াতকে এই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মতিঝিলে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে অনুষ্ঠিত ফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব সংবাদ ব্রিফিংয়ে উল্লেখিত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংলাপ করবে ঐক্যফ্রন্ট। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে তাতে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না। এ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আন্দোলনে সব মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।
ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ইত্তেফাককে জানান, সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) ও বামদলগুলোসহ সুশীল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংলাপে আগামীদিনের রাজনৈতিক সমাধান আনার লক্ষ্যে নাগরিক সমাজ থেকে আসা পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে চায় ঐক্যফ্রন্ট।
ড. কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিএনপির কেউ উপস্থিত ছিলেন না। বিএনপির প্রতিনিধির অনুপস্থিতির পেছনে কোনো মনোমালিন্য আছে কি-না, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে রব বলেন, ঐক্যফ্রন্টে কোনো মনোমালিন্য নেই। একই প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ, তাই তিনি আসতে পারেননি। ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা ড. আব্দুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়েরও বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এই দুইজনেরও না থাকার বিষয়ে মন্টু বলেন, ‘তাদের আসার কথা ছিল। কিন্তু মামলা ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তারা আসতে পারেননি।’ জানা গেছে, ড. মঈন খান রাস্তায় জ্যামে পড়ে বৈঠক ধরতে পারেননি।
নির্বাচনের আগে গণভবনে সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আমন্ত্রণ জানানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সেই বিষয়ে মন্টু বলেন, ‘কোন প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের কথা বলছেন? ৩০ ডিসেম্বর তো কোনো নির্বাচনই হয়নি। আমরাতো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি।’
এদিকে, ড. কামাল হোসেন চিকিত্সার জন্য আগামীকাল শনিবার সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন। ৩-৪দিন তিনি সেখানে থাকবেন। এ ব্যাপারে মন্টু বলেন, ড. কামাল দেশে ফেরার পর ঐক্যফ্রন্ট আরও কর্মসূচি দেবে।
বৈঠকে কামাল হোসেন, রব, মন্টু ছাড়াও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।