কল দিয়ে কথা বলা যাচ্ছে না তবু টাকা কাটছে গ্রামীণফোন

ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক নেই, কল দিলেও কথা বলা যাচ্ছে না, তারপরও কেটে নিচ্ছে টাকা। গত দুই সপ্তাহ ধরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। গ্রাহকরা গ্রামীণফোনের এই আচরণকে প্রতারণা বলে আখ্যায়িত করেছেন। কাস্টমার সেন্টারে বারবার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না। বাধ্য হয়েই ওই এলাকার মানুষ গ্রামীণফোন ছেড়ে রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকে চলে যাচ্ছেন। নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলের যে সুযোগ সেখানে গ্রাহকদের ছাড়ছে না গ্রামীণফোন। নানা উছিলায় তাদের নম্বর পোর্ট করতেও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা দুর্বিসহ সময় পার করছেন।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে ইত্তেফাককে বলেন, পৌর এলাকায় গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সমস্যা প্রবল আকার ধারণ করেছে। এ সমস্যার কারণে সাধারণ গ্রাহকসহ আমাদের অফিসিয়াল কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। সেই সঙ্গে বার বার ফোন করতে গিয়ে অর্থের অপচয়ও হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এখন বাধ্য হয়ে গ্রাহকরা গ্রামীণফোনের সিম পরিবর্তন করে অন্য অপারেটরদের সিম ব্যবহার করছেন। গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ারে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

ভানুগাছ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক এ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসেন বলেন, গত ২ জানুয়ারির পর থেকে ভানুগাছ বাজারের আশপাশে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক ভোগান্তির কারণে ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে না। ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মোহিত চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করেন, গত ৫ জানুয়ারি গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ারে মোবাইল ফোনে অভিযোগ জানানো হলে তারা জানিয়েছিলেন, ৮ জানুয়ারির মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হয়নি।কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় গ্রামীণফোনের সমস্যাজনিত অভিযোগ বিষয়ে জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ১২১-এ ফোন দিলে গ্রামীণফোন কাস্টমার সেন্টার থেকে পারভীন নামে এক নারী ফোন রিসিভ করেন। বিস্তারিত জানানোর পর তিনি এই প্রতিনিধিকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি নোট করে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখবে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে। কতদিনে হবে তা তিনি বলেননি।