নিখোঁজ ২০ জনের সন্ধান মিলেনি তিন দিনেও

মুন্সীগঞ্জের সীমানাধীন মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে সোনার স্ক্যানে নদীর তলদেশে ট্রলার জাতীয় কিছু একটার অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ। এদিকে, ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের সন্ধান মিলেনি তিন দিনেও। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে মেঘনার পাড়ে ভিড় করছেন স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। ইতোমধ্যে উদ্ধার কাজে গতি বাড়াতে যোগ দিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ও আট সদস্যের নৌবাহিনীর বিশেষ টিম।

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান পেতে টানা দুই দিন ধরে মেঘনার পাড়ে অশ্রুসিক্ত চোখে আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনরা। প্রিয় মানুষটির ভাগ্যে যাই ঘটুক অন্তত লাশ চান তারা।

সোমবার গভীর রাতে মুন্সীগঞ্জের সীমানাধীন মেঘনা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় মাটি বোঝাই ওই ট্রলার ডুবে যায়। এসময় ট্রলারে থাকা ১৪ জন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ২০ শ্রমিক নিখোঁজ হয়। এ ঘটনার একদিন পর বুধবার উদ্ধার অভিযান শুরু করে প্রশাসন।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা প্রায় সবাই ঘুমিয়ে থাকার কারণে ট্রলার ডুবির স্থানটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারছে না তারা। আর ট্রলারের চালকও নিখোঁজ থাকায় অনেকটা অনুমানের উপর ভিত্তি করে তাদের কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে। মেঘনা নদীর এই অংশের গভীরতা ও প্রশস্ততা বেশি হওয়ায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে, দুপুরের পর অত্যাধুনিক সাইড স্ক্যান সোনার প্রযুক্তির মাধ্যমে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করতে সম্ভাব্য এলাকার নদীর তলদেশের ছবিতে ট্রলার জাতীয় কিছু একটার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। তবে এটি সেই ডুবে যাওয়া ট্রলার কি-না তা এখন নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন তারা।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডোর মোজাম্মেল হক দুর্ঘটনাস্থল থেকে জানান, আমরা নদীর নিচে ট্রলার সাদৃশ একটি ইমেজ পেয়েছি; তবে তা ট্রলার কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকা থেকে আরো ইকুইপমেন্ট আনা হয়েছে। একই সাথে ৮ সদস্যেসের নৌবাহিনীর বিশেষ টিম ও নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। আশা করছি, অচিরেই ট্রলারটি খুঁজে পাওয়া যাবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা দুর্ঘটনাস্থল থেকে জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ সন্ধ্যার কিছু আগে দুর্ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে। ডুবে যাওয়া    ট্রলারটি শনাক্ত করার পরই প্রত্যয়ের ক্রেনে করে ট্রলারটি তীরে উঠিয়ে আনা হবে। এখনো দুর্ঘটনাস্থলটি শনাক্ত করা যায়নি। বিশাল মেঘনা নদীতে রাতে দুর্ঘটনা ঘটার কারণে স্থানটি চিহ্নিত করতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরো জানান, জেলার গজারিয়া উপজেলার কালীপুরা গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর তলদেশে সোনার মেশিনে শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ভাঙ্গুরার নিখোঁজ ১৭ শ্রমিকের আত্মীয়স্বজনের আহাজারিতে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মণ্ডুমালা, দাসমরিচ, মাদারবাড়িয়া ও চন্ডিপুর গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে।