শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি হাইকোর্টে শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল আদালতে মামলার রায় উপস্থাপন করেন। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ শুনানি গ্রহণ করেন।

২০১৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় হুজির দশ জঙ্গিকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের  কোটালিপাড়ায় লুত্ফর রহমান সরকারি কলেজ মাঠে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের

একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকার প্রধান। ঘটনাস্থলের আশপাশে সরকারি ও বেসরকারি অনেক সম্পত্তি ছিল। সেনাবাহিনীর  বোমা বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধারকৃত বোমা দুটির (৭৬/৮০ কেজি) বিষয়ে যে রিপোর্ট দাখিল করেছে তাতে দেখা যায়, ওই বোমা এতই শক্তিশালী ছিল  যে এই বোমার ইমেপ্রাভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি)  বিস্ফোরণ ঘটলে এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এলাকা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি হতো। ঘটত মানুষের প্রাণহানি। ক্ষতি হতো অনেক সম্পত্তির।

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, প্রথম বোমাটি হতে দ্বিতীয় বোমাটি আরো বিপজ্জনক ছিল এবং উভয় বোমার ড্রপ জোন থেকে চারপাশের এক কিলোমিটার এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে যেত।

পরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের পর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে পাঠান প্রধান বিচারপতি।

রায়ে বলা হয়, হুজির প্রধান মুফতি আব্দুল হান্নানসহ  অন্য আসামিদের পরিকল্পনা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের সাবান কারখানায় বিস্ফোরক /সরঞ্জামাদি আসে। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে এ মামলার দণ্ডিতরা জনসভাস্থলের কাছে এবং হেলিপ্যাড সংলগ্ন স্থানে  বোমা পুঁতে পরস্পরকে  সহায়তা করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এ কারণে তাদেরকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(১)(এ)(বি) (সি) /২৫(ডি) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।

ওই আইনের ৩৪(ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মোতাবেক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে অথবা মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতি মোতাবেক গুলি করে দণ্ড কার্যকর করা হবে।