গেলো বছর ফেরি চালুর সংবাদ ছিলো বন্দরবাসীর জন্য সবচেয়ে আনন্দ ও স্বস্তির। তবে বছরান্তে সেই আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। ফেরি থাকলেও এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখনো আগের মতোই ঝক্কি-ঝামেলা পোহাচ্ছে বন্দরবাসী। হাজীগঞ্জ থেকে নবীগঞ্জ ফেরি ঘাট কিংবা নগরীর ৫নং ঘাটে ফেরির চলাচলের অব্যবস্থাপনায় বিরক্ত দুই পাড়ের মানুষ।
হাজীগঞ্জ ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করা যাত্রীরা জানায়, ‘হাজীগঞ্জ ও নবীগঞ্জের মধ্যে যানবাহন পারাপারের জন্য তিনটি ফেরি আছে। সংখ্যায় তিনটি হলেও কার্যত চলাচল করে একটি। তাও সেটিকে নানা অজুহাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। যানবাহন ও মালামাল নিয়ে লোকজন দীর্ঘসময় অপেক্ষা করলেও ফেরি ছাড়তে নানা টালবাহানা করা হয়। এপার থেকে ওপারে গিয়ে আবারও সেই একই ঘটনা। মানুষের দুর্ভোগ এরা আমলেই নিতে চান না।’
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটে দুই পাড়েই যানবাহন ও মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। প্রতিবার ফেরিতে ৬-৭টা বড় গাড়ি উঠে। সাথে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল তো আছেই। প্রতিবারে পারাপারে ৭০০-৮০০ টাকা উপার্জন হচ্ছে। ১টি ফেরিতে দিনে উপার্জন প্রায় ২৬-২৮ হাজার টাকা। ফেরির একজন কর্মচারী জানান, ফেরিতে ১ দিনে তেল বাবদ খরচ হয় ৬ হাজার ৫০০ টাকা। যাত্রীরা জানায়, সকালে ৭ থেকে ৯টা পর্যন্ত অনেক যাত্রী যাতায়াত করে। কিন্তু সে সময় ফেরি চালু হয় না। যাতায়াত করার জন্য নৌকাই এখনো তাদের একমাত্র ভরসা। ফেরির চালক বিল্লালের দাবি, দেরি করে ছাড়ার কারণ গাড়ি কম। ফেরি পূর্ণ না হলে ফেরি চালানো যায় না। তেলের অনেক খরচ বেশি, পোষায় না। এই ফেরি দিনে ৩০-৩৫ বার যানবাহন পারাপার করে। সুপারভাইজার হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, ফেরিতে গাড়ি হলে আমরা সাথে সাথে ফেরি ছেড়ে দেই। আবার দেখা গেছে রোগী থাকলে আমরা ছেড়ে দেই। অনেক সময় দেখা গেছে প্রশাসন, এমপি বা চেয়ারম্যান পার হবেন বা তাদের রেফারেন্স দেয় তাহলেও ফেরি ছেড়ে দেই। নির্বাচনের দুইদিন আগে ও পরে দুইটি ফেরি চালু ছিলো।