উখিয়ার তেলখোলা বটতলীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

উখিয়ার থাইংখালীর বটতলী ও সংলগ্ন তেলখোলা এলাকায় বনভূমির পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বেপরোয়াভাবে এসব বালু উত্তোলন ও বাজারজাত করছে। এতে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

জানা যায়, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের কারণে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ক্যাম্পভিত্তিক বিভিন্ন স্থাপনা এখানে গড়ে তুলছে। নতুন স্থাপনা নির্মাণে বেড়ে গেছে বালুর চাহিদা। এসব বালুর যোগন দিয়ে রাতারাতি ধনী হতে স্থানীয় একটি অসাধু চক্র নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করে বালু উত্তোলন করছে।

মঙ্গলবার সকালে থাইংখালীর পশ্চিমে প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা বটতলীসংলগ্ন তেলখোলার আগা নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই একর কৃষি জমির উপর উত্তোলিত বালু মজুদ করা হয়েছে। পাশেই বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন। বনভূমির পাহাড় সংযুক্ত ছড়া থেকে অভিনব কায়দায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কথা বলতে চাইলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট মেশিন বন্ধ করে নিকটস্থ পাহাড়ে গা ঢাকা দেয়। পরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় মৃত সোলতান আহম্মদের ছেলে আব্দুস ছালাম থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুস ছালামের সাথে কথা বলার জন্য বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় দিল মোহাম্মদ, আলী মিয়া, সোনালীসহ আরো বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভারী যানবাহন দিয়ে এসব বালু পরিবহন করার ফলে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তা ছাড়া, এলাকার সেতু-কালভার্ট যেকোনো সময়ে ধসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও তারা জানায়।

পরিবেশবাদী সংস্থা কক্সবাজার মিডিয়া এনভাইরনম্যান্ট ডেভেলপমেন্টের কন্সালট্যান্ট বিশ্বজিত্ দাশ বলেন, পাহাড় থেকে বালু উত্তোলনের ফলে জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে। প্রাণিকুল অস্থিত্ব সংকটে পড়ার ফলে জনস্বাস্থের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফখরুল ইসলাম জানান, অবৈধ বালি উত্তোলনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মালামাল জব্দ করার বিধান রয়েছে। তিনি জানান, সবেমাত্র কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।