বিশ্বনাথে পানির অভাবে ফসলি জমি অনাবাদী

সিলেটের বিশ্বনাথে ভরা বোরো মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার করছেন কৃষকরা। পানির অভাবে হাওরের হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদী পড়ে আছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কালিজুরী ও মটুকোনা গ্রামসহ আশপাশ গ্রামের কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি না পেয়ে চাষাবাদ করতে পারছে না। এমন অবস্থায় ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক চাষাবাদের প্রয়োজনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পানি সংরক্ষণের জন্য নিজ জমিতে পুকুর খনন করছেন।

জানা যায়, উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের বাসিয়া নদীর মটুকোনা সংলগ্ন কালিজুরী হাওর হয়ে বাউসি কাশিমপুর হাওর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি প্রভাবশালীদের দখলে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারিয়ে বর্তমানে ছোট নালায় পরিণত হয়েছে। একসময়ে ওই খালের পানি দিয়েই হাওরের জমিগুলোতে চাষাবাদ হতো। কিন্তু বর্তমানে পানির অভাবে হাওরের কয়েক হাজার হেক্টর বোরো জমি অনাবাদী পড়ে আছে। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে কালিজুরী হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চাষাবাদের সুবিধার্থে পানি সংরক্ষণের জন্য অনেকেই তাদের নিজ জমিতে পুকুর খনন করছেন। স্থানীয়রা জানান, একসময়ে এই খালটির প্রস্থ ছিল ২০ থেকে ২৫ ফুট। খাল দিয়ে চলাচল করতো নৌকা। কিন্তু ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে ও প্রভাবশালীদের দখলে খালটি এখন ৫ থেকে ৭ ফুট প্রস্থে নেমে এসে ছোট নালায় পরিণত হয়েছে। এলাকার শত শত অসহায় কৃষকের ভবিষ্যত্ চিন্তা করে ওই খালটি পুনঃখননের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় কালিজুরী গ্রামের কৃষক জমিরউদ্দিন জানান, একসময়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট প্রস্থের খালটি দিয়ে বড় বড় নৌকা চলাচল করতো। পুরো বোরো মৌসুমে এই খালের পানি দিয়ে হাওরের কৃষকরা অনেকটা অনায়াসে বোরো আবাদ করতেন। বর্তমানে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ ফুট প্রস্থে নেমে এসেছে। ফলে পানির অভাবে পুরো হাওরের কয়েক হাজার একর ফসলি জমি অনাবাদী থাকে। তিনি বলেন, নিরুপায় হয়ে দূরের একটি পুকুর থেকে পাইপ দিয়ে পানি এনে এখানে কিছু জমিতে চাষাবাদ করেছি। এখন এখানেই পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে আমি ও আমার চাচাতো ভাই নিজ জমিতে পুকুর খনন করছি। তবে অসহায় কৃষকদের ভবিষ্যত্ চিন্তা করে ওই খালটি পুনঃখননের জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, খালটি দ্রুত খননের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠাবো। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের জন্য উপজেলার সবকটি হাওর-বিল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।