আখাউড়ায় এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরম পূরণে বোর্ডের নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু এসব অর্থ গ্রহণের কোন রসিদ দেয়া হয়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষকরা বলছেন, পরীক্ষা উপলক্ষে ৩ মাসের বিশেষ পাঠদান ও বকেয়া বেতন বাবদ টাকা নেয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ ফি নির্ধারিত করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার ৮৩৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ হাজার ৭১৫ টাকা। সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আখাউড়া উপজেলায় ১টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ৭ নভেম্বর থেকে এসএসসির ফরম পূরণ শুরু হয়। এরমধ্যে নাছরীন নবী বিদ্যালয়ে ফরম পূরণে আড়াই হাজার টাকা নেয়া হয়। বাকি ১৫টি বিদ্যালয়েই ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা ফরম পূরণে আদায় করা হয়। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীকে অর্থ আদায়ের কোন রসিদ দেওয়া হয়নি। আখাউড়া হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন ভুইয়া ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে তার মেয়ের ফরম পূরণ করেছেন। তার মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় ১ হাজার টাকা কম রেখেছে। ওই বিদ্যালয়ের সাদিয়া আক্তার ও আদ্রিসা ইসলামসহ বেশ কিছু ছাত্র ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফরম পূরণের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের নিকট থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন।
এছাড়াও উপজেলার দেবগ্রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার টাকা, আমোদাবাদ শাহ আলম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার টাকা, কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা, রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার টাকা, তোলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয় এবং মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। উপজেলার অন্যান্য স্কুলগুলোতেও একই চিত্র বিরাজ করছে। আখাউড়া হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: নুর ই আলম জানান, বিশেষ ক্লাস ফি ও অন্যান্য বকেয়া টাকা একসাথে নেয়ার কারণে ফরম পূরণের সময় টাকার পরিমাণ বেড়েছে। হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইলিয়াছ ফরম পূরণে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শুধু আমাদের স্কুলে নয় উপজেলার সব স্কুলেই এরকম ফি নিচ্ছে। আখাউড়া উত্তর ইউপি সদস্য ও আমোদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. সাত্তার মিয়া বলেন, ৩ হাজার টাকা দিয়ে তার মেয়ের ফরম পূরণ করেছেন। কিন্তু বিদ্যালয় থেকে রসিদ দেয়নি। বলেছে রসিদ পরে দিবে।
এ ব্যাপারে আখাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শওকত আকবর খান বলেন, বোর্ড নির্ধারিত ফিসহ বিদ্যালয়ের বকেয়া পাওনা রশিদের মাধ্যমে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্কুলগুলোকে। লেনদেনের ক্ষেত্রে কেউ অসত্ উপায় অবলম্বনের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।