কে হায় চিরবিদায় নিতে চায় এই সুন্দর ভুবন থেকে? খুব নগণ্য সংখ্যক মানুষ অবশ্য মরতে চায়, মানে আত্মহত্যা করতে চায়। আত্মহত্যা করেও কেউ কেউ। কিন্তু অত্যন্ত অস্বাভাবিক অনতিক্রম্য কোনো সমস্যায় না পড়লে এ পৃথিবী থেকে কেউই বিদায় নিতে চায় না।
অথচ ‘জন্মিলে তো মরিতে’ হবেই। সেক্ষেত্রে আয়ুটাকে যদি ইলাস্টিকের মতো আরো একটু টেনে লম্বা করা যায়, সেটা অনেকের কাছেই অনেক বড় ব্যাপার। উন্নত দেশগুলোতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর পেছনে সবচাইতে বড় কারণ— সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা। কিন্তু সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন বলতে ঠিক কী বোঝায়? শুধু খাওয়া-দাওয়া, ব্যায়াম? নাকি দীর্ঘজীবী হওয়ার রহস্য অন্য কিছু?
গবেষকদের মতে, দীর্ঘজীবী হতে তিনটি জিনিস প্রয়োজন—শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন, হাঁটাচলা, অর্থাত্ সচল থাকা এবং ভালোবাসা। আর এ তিনটি বিষয়ই রয়েছে মানুষের নিজের হাতে। তাই এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিলেই তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব। তারুণ্য ধরে রাখতে বা দীর্ঘজীবী হতে নিয়মিত ও পরিমিত আহার করা। গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন রাতের খাবার বিকেল চারটায় এবং আরো দু’দিন সন্ধ্যা ছ’টায় খেলে সেটা শরীরের মেটাবলিজমের জন্য দারুণ উপকার বয়ে আনে। রাতে কম খেলে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হূদরোগ এবং স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। তাছাড়া রাতে দু-চার দিন পেট খালি থাকলে, অর্থাত্ কম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে এবং প্যানক্রিয়াসে ইনসুলিনের মাত্রা হ্রাস পায়। এছাড়া রাতে শরীরের বিভিন্ন অংশ বিশ্রাম করারও সুযোগ পায়।
দীর্ঘজীবন পেতে হলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটাও অত্যন্ত জরুরি। তাই সৃষ্টিশীল কোনো কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন। ৫০ বছরের পর যে কোনো বাদ্যযন্ত্র বা বিদেশি ভাষা শেখা শুরু করতে পারেন। এগুলো ব্রেনের স্টেম সেলগুলো সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
মানসিক কষ্ট হূদয় ভেঙে দেয়—সেকথা কে না জানে। সুস্থ শরীর এবং মনের জন্য ভালোবাসা অপরিহার্য। তাই নিজেকে ভালোবাসুন, নিজে ভালোবাসুন এবং অন্যকে ভালোবাসার সুযোগ দিন? তারুণ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে সুস্থ যৌনজীবনের ভূমিকাও অনেক।
সুশৃঙ্খল জীবন, স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়ামের পাশাপাশি মনকে প্রফুল্ল রাখা এবং স্ট্রেস থেকে দূরে থাকা দরকার। যার যা ভালো লাগে দিনে কিছুক্ষণের জন্য হলেও তা করুন। এছাড়া শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে যথেষ্ট ঘুমেরও প্রয়োজন। এসবের মাধ্যমেই আপনি অর্জন করতে পারেন দীর্ঘজীবন। আসলে দীর্ঘজীবন আমাদের নিজেদের কর্মের ভেতরেই।
n লেখক :শিক্ষক, সাংবাদিক