স্পোর্টস রিপোর্টার
একটা আলাপ জমে উঠেছিল- বিশ্বকাপে আর মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দরকার আছে কি না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই আলোচনাটাকে মাটিতে পুঁতে ফেললেন ধোনি। টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশ পার করা ইনিংস খেললেন। সেই সাথে গতকাল মেলবোর্নে অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে এনে দিলেন ম্যাচ ও সিরিজ জয়। ধোনির ব্যাটে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতলো ভারত। শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটে জয় পেয়েছে সফরকারীরা।
বল হাতে পেয়েই ভারতকে ভালো শুরু এনে দেন পেসার ভুবেনশ্বর কুমার। ভুবেনশ্বরের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ১৪ রান করেন ফিঞ্চ। এই সিরিজের তিন ম্যাচেই ভুবেনশ্বরের শিকার হলেন ফিঞ্চ।
২৭ রানে দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর দলের হাল ধরেন উসমান খাজা ও শন মার্শ। তৃতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ভারতের লেগ-স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের ঘূর্ণিতে বিদায় নেন খাজা ও মার্শ। খাজা ৩৪ ও মার্শ ৩৯ রান করেন।
সিরিজের প্রথম দু’ম্যাচে সাইড-বেঞ্চে ছিলেন চাহাল। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দলে সুযোগ পেয়েই নিজের কারিশমা দেখান তিনি। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার আরও চার উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের বড় স্কোরের পথ বন্ধ করে দেন চাহাল। ১০ ওভার বল করে ৪২ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন চাহাল। ৩৫ ম্যাচের ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং ফিগার দাঁড় করান চাহাল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগার এটি। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যেকোনো বোলারের ক্ষেত্রে যৌথভাবে সেরা বোলিং ফিগারও তার।
চাহালের ঘূর্ণিতে পড়ে ইনিংসের ৮ বল বাকি থাকতে ২৩০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
জয়ের জন্য ২৩১ রানের টার্গেটে সতর্কতার সাথেই শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। তবে এই জুটি ১৫ রানে বেশি করতে পারেনি। রোহিতকে ৯ রানে থামিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার পিটার সিডল।
এরপর অধিনায়ক কোহলিক নিয়ে দলের স্কোর বড় করছিলেন ধাওয়ান। তবে তাদের ব্যাটিং ছিল ধীরগতির। তাই ১৬ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৭ রান। ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ধাওয়ানকে থামান অস্ট্রেলিয়ার পেসার মার্কাস স্টোয়িনিস। ৪৬ বলে ২৩ রান করেন ধাওয়ান।
ধাওয়ানের বিদায়ের ক্রিজে কোহলির সঙ্গী হন সাবেক অধিনায়ক ধোনি। এই জুটিতে রান তোলার কাজটা বেশি করেছেন ধোনি। তবে বেশ ধীরলয়ে। দলের স্কোর শতরানের কোটা পার করে বিচ্ছিন্ন ধোনি-কোহলি। ৩টি চারে ৬২ বলে ৪৬ রান করা কোহলিকে থামান অস্ট্রেলিয়ার পেসার জেই রিচার্ডসন। পাঁচ নম্বরে নামা কেদার যাদবকে নিয়ে ভারতের রানের চাকা ঘুরাতে থাকেন ধোনি। একপর্যায়ে এই সিরিজে টানা তৃতীয় ও ৩৩৫ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৭০তম হাফ-সেঞ্চুরি করেন ধোনি। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে ভারতকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন যাদব। ৬টি চারে ১১৪ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে ধোনি। ৭টি চারে ৫৭ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন যাদব।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৪৮.৪ ওভারে ২৩০/১০ (হ্যান্ডসকম্ব ৫৮, শন মার্শ ৩৯, খাজা ৩৪, ম্যাক্সওয়েল ২৬; চাহাল ৬/৪২, ভুবনেশ্বর ২/২৮, শামি ২/৪৭)।
ভারত: ৪৯.২ ওভারে ২৩৪/৩ (ধোনি ৮৭*, জাদব ৬১*, কোহলি ৪৬, ধাওয়ান ২৩)।