বেতন কাঠামোয় নারী ফুটবলাররা

এক বছরের চুক্তি

 স্পোর্টস রিপোর্টার

নারী ফুটবলাররা নির্দিষ্ট একটি চুক্তির আওয়তায় আসছে। তাদের বাবা-মায়েরা দারুণ খুশি। খেলোয়াড়দের বাবা এবং মাকে ঢাকায় এনে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের সন্তানরা এবার নিয়মিত অর্থ পেতে যাচ্ছে। ৩৬ ফুটবলারকে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। তবে ক্যাটাগরিতেও উঠা নামার ব্যবস্থা থাকবে। কেউ যদি ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ভালো করে পারফরম্যান্স করে তাহলে সে উঠে আসবে উপরের ক্যাটাগরিতে। আবার কেউ যদি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থেকেও ভালো পারফরম্যান্স না করে তাকে নামিয়ে দেওয়া হবে।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি। ১৯ জানুয়ারি হতে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি। বাফুফের স্ট্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পল স্মলী জানিয়েছেন, এটি তিন পক্ষের চুক্তি। বাফুফে, খেলোয়াড় এবং তাদের অভিভাবকের মধ্যে চুক্তি। তারা আরও ভালোভাবে নারী ফুটবল নিয়ে কাজ করবে বলেই এ পথে যাচ্ছেন। যেন খেলোয়াড়রা আরও বেশি মনোযোগী হয়। খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক অর্থ দেওয়া হবে তাই অভিভাবকদের সঙ্গেও আলোচনার বিষয় রয়েছে। তাদের মত ছাড়া খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট চুক্তির আওতায় আনা হলে সেটি অনুসরণ করতে হবে অভিভাকদেরও। ডিফেন্ডার আঁখির বাবা আক্তার হোসেন দারুণ খুশি। তিনি বলছিলেন ‘আমার স্বাধীনতা হারালাম। এখন সব কিছু করবে বাফুফে। বাফুফে যেটা করবে সেটাই আমরা মেনে নিব।’ আবেগে তিনি বলছিলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি আমার মেয়ের কারণে আমি এতো বেশি সম্মানিত হব।’

বাফুফের আহ্বানে ঢাকায় এসেছেন সানজিদা আক্তার, আঁখিদের বাবা কিংবা কারো বড় ভাই। বাবা-মা অভিভাবকদের বাফুফে জানিয়ে দিয়েছে খেলোয়াড়রা কীভাবে দেশের নারী ফুটবলে অবদান রেখে যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের অভিভাকদের পেয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন তুলে ধরলেন ফুটবলাররা কীভাবে দেশের জন্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। বাফুফে সভাপতির আবেগময় কথাগুলো শুনতে গিয়ে বাফুফের ভবনের কনফারেন্স রুমে পিনপতন নীরবতা। সালাহউদ্দিন বলছিলেন, এটি বেতন কিংবা ভাতা বলব না। এটা সম্মানী বলতে চাই আমি।’ নারী ফুটবলারদের পরিশ্রমের কথা তুলতে গিয়ে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘আপনারা দেখেন ওরা ৯০ মিনিট খেলছে। এই ৯০ মিনিট খেলতে গিয়ে কতো হাজার ৯০ মিনিট পরিশ্রম করতে হয়। ওদের বয়সের মেয়েরা পুতুল খেলছে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে। আর এ মেয়েরা ৩০ ডিগ্রি গরমের মধ্যেও মাঠে নামছে। আড়াই তিন বছর এই মেয়েরা বাফুফে ভবনে রয়েছে আমি কোনো দিন একটা অভিযোগ শুনিনি। আপনারা (অভিভাবকদের) সেভাবেই সন্তানদের গড়ে তুলেছেন। আমি আরও একটা কথা বলতে চাই। অনেকেই বাফুফে ভবনে এসে সরাসরি ঢুকতে পারে না বলে তারা আমাদের সম্পর্কে বিষোদ্গার করে। কিন্তু আমরা কেন নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। কারণ এখানে এতোগুলো মেয়ে ক্যাম্প করছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাকে কিছু বিষয় ভাবতে হয়।’

চুক্তি নিয়ে বাফুফের মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরন বলেন, ‘চুক্তি চলাকালীন কারো পরিবার যদি তার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয় আর যদি কেউ বিয়ে করেও তার পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে সে খেলবে। না পারলে খেলবে না। আমরা বিয়ের ব্যাপারে নিরুত্সাহিত করি। কারণ বিয়ে হলে তার নতুন পরিবার, আত্মীয়স্বজন, অনেক ব্যাপার থাকে। যা ফেলে কঠোর অনুশীলন করা কঠিন। অনেক খেলোয়াড় খেলা চলাকালীন বিয়ে করে হারিয়ে গেছে।’

চুক্তির আওতায় যারা

রোকসানা, মাহমদুা, শিউলী, রুপনা চাকমা, আঁখী খাতুন, মাসুরা, সামসুন নাহার ছোট, সামসুন নাহার বড়, রিতু পর্না, আনাই মগিনি, নারগিস, নীলা, রত্না, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, সানজিদা, মারজিয়া, মৌসুমী, রত্না বড়, সুলতানা, লাবণী, মুন্নি, সাবিনা, কৃষ্ণা রানী, অনুচিং, রাজিয়া, সোহাগী, নিতি, রোজিনা, তহুরা খাতুন, রেহানা, নাজমা, সাজেদা, রিফা, ইলা, স্বপ্না।