এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি শ্রমিক অধ্যুষিত হওয়ায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এখানকার হোটেলে খাবার বিক্রি হয়।
মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে
জরিমানা আদায় করলেও হোটেলের পরিবেশের উন্নতি কিংবা ও
পচা-বাসি খাবার বিক্রি বন্ধ হয় না
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিদ্ধিরগঞ্জে হোটেল রেস্তোরাঁয় পচা-বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব খাবার খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসব হোটেল রেস্তোরাঁর পরিবেশও নোংরা। এতে এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি শ্রমিক অধ্যুষিত হওয়ায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এখানকার হোটেলে খাবার বিক্রি হয়। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করলেও হোটেলের পরিবেশের উন্নতি কিংবা ও পচা-বাসি খাবার বিক্রি বন্ধ হয় না।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০নং ওয়ার্ড এলাকা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল, আদমজী নগর, সোনামিয়া বাজার, কদমতলী বউ বাজার, চৌধুরীবাড়ী ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে কয়েকশত হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব হোটেলে রান্না করা মাছ, মাংস, বিভিন্ন তরকারি, ডাল, সিংগাড়া, বিভিন্ন ধরনের চপ, পেঁয়াজু বিক্রি হয়। এক শ্রেণির অসাধু হোটেল মালিক কয়েকদিনের ব্যবহূত ভাজা তেল ও মসলা দিয়ে মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন তরকারি রান্না করে পরিবেশন করে থাকে। এছাড়া গরুর মাংসের পরিবর্তে মহিষ, খাসির পরিবর্তে ভেড়া ও বকরির মাংস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
এসব হোটেলের রান্না ঘরের পরিবেশও নোংরা, অস্বাস্থ্যকর। রান্না ঘরে তেলাপোকা, ইদুর দৌড়াদৌড়ি করার পাশাপাশি কুকুর বিড়ালেরও আগাগোনা দেখা যায়। কোনো কোনো হোটেলে দুপুরের খাবার ছাড়াও চপ, পেঁয়াজু, ছোলাভাজা, চানাচুর, সিংগাড়া ভেজে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব খাবার ভেজাল তেলে তৈরি করছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
অনেকেই অভিযোগ করেন, এসব হোটেল-রেস্তোরাঁ অনেক দিনের ব্যবহূত পুরাতন তেলে বিভিন্ন খাবার ভেজে বিক্রি করে যাচ্ছে। এ অবস্থা সিদ্ধিরগঞ্জের অলিগলির হোটেল ছাড়াও নামি হোটেলও রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানায়। এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শাহজাহান হাওলাদার জানান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পচা-বাসি খাবার বিক্রি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়। প্রয়োজনে সেগুলো বন্ধও করে দেওয়া হবে।