সাভারে কলেজছাত্র মারুফ হত্যাকাণ্ড
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় সাভারে বখাটেদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয় কলেজ ছাত্র মারুফ (২০)। হত্যাকাণ্ডের ৫ মাসেও পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে আসামি ও তার আত্মীয়-স্বজনরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও তার পরিবারের কাছে প্রতিনিয়ত তদবির করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট সাভার পৌর এলাকার রাজাবাড়ি মহল্লায় এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে এলাকার চিহ্নিত বখাটে মঞ্জু ও তার সহযোগীরা। এ সময় ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে সদ্য এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করা মারুফ ইভটিজিং- এর প্রতিবাদ করে এবং ওই তরুণীকে নিরাপদে চলে যেতে সাহায্য করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী মঞ্জুর নেতৃত্বে শ্যামল, প্লাবন, মমিন, শামীম, রইছ, আসাদুল, মুক্তাদিন, ইমরানসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী সন্ধ্যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে মারুফকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারুফের মৃত্যু হয়।
এঘটনার পরদিন নিহত মারুফের ভাই লুত্ফর রহমান খান মানিক বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নামে মামলা করেন। কিন্তু ঘটনার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও একজন ছাড়া মামলার আর কোনো আসামিই গ্রেফতার হয়নি। মামলাটি থানা থেকে সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়।
মামলার বাদী নিহত মারুফের বড় ভাই লুত্ফর রহমান অভিযোগ করে বলেন, খুনিরা এলাকার চিহ্নিত। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলার সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দিচ্ছে। ৫ মাস হলেও পুলিশ এখনও আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালেও সাভারের ব্যাংক কলোনি মহল্লায় এক স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় একই গ্রুপ (মঞ্জু গ্রুপ) তিন শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করলে থানায় মামলা হয়।