বিনোদন রিপোর্ট
এক সময় মানুষ বলতো, হিট হয়েছে বুঝলাম কিন্তু এটি ভালো সিনেমা তো? কিন্তু এখন তার উল্টোটা জিজ্ঞেস করে মানুষ! সিনেমার ভালো খারাপ হিট দিয়েই বিচার করা হয় এখন। তাই সিনেমা হিট করতে কতই না আপ্রাণ চেষ্টা পরিচালক কিংবা সিনেমা সংশ্লিষ্টদের। সৃজিত মুখার্জি সেই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বানালেন আরো একটি চলচ্চিত্র, নাম ‘উমা’। যে চলচ্চিত্র দেখে কলকাতার মানুষ নিজেদের আবেগ হারিয়েছিল। আবার ফিরেও পেয়েছে কিছু কিছু দৃশ্যে। অনেক বাবা সিনেমা হলের পাশের সিটে বসে থাকা নিজের ছোট্ট শিশুটির হাত চেপে ধরেছেন। কারো চোখ ছলছল করছে পুরোদিন। বাবা আর মেয়ের সম্পর্ক কতটা আপন ও কতটা গভীর তা-ই যেন দর্শকদের ভেজা চোখ বাতলে দিচ্ছিল।
সিনেমা বোধহয় একেই বলে। সিনেমার প্রাণ থাকতে হয়। যেটা নিয়ে আলাপ করার যায় যুগের পর যুগ, কখনো এর আবেদন কমবে না। হয়তো উমা নিয়েও হয়তো আলোচনা হবে অনেকবছর।
সৃজিত মুখার্জির এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন যীশু সেনগুপ্ত, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জন দত্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রুদ্রলীন ঘোষসহ অনেকে। সৃজিতের এই ছবির মাধ্যমেই বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটেছে অভিনেতা যীশু সেনগুপ্তের মেয়ে সারা সেনগুপ্তের। গল্পের মূল চরিত্রে উমার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যীশুর মেয়ে সারা। তাই ছবির বাবা-মেয়ের গল্প যেন বাস্তবকেও ছাপিয়ে গেছে। যীশু সেনগুপ্তও নিজের মেয়ের সাথে এই ছবিতে অভিনয়ে নিজের দক্ষতার সর্বোচ্চ প্রমাণ দিয়েছেন।
রূপালি পর্দায় উমা মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে থাকা এক প্রাণবন্ত ছোট্ট মেয়ে। কিন্তু সে এখনো লড়ে যাচ্ছে তার ইচ্ছে পূরণের আশায়। বাবার কর্মসূত্রে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান তাদের। উমার অনেক ইচ্ছে, কলকাতা শহরের দুর্গাপূজা দেখা। কিন্তু দুর্গাপূজা পর্যন্ত যে উমার সময় নেই। উমার বাবা যখন তার মেয়ের এই অবস্থায় লুকিয়ে চোখের জল ফেলেন। কারণ তখন গ্রীষ্মকাল। নিয়ম অনুযায়ী বছরে একবারই দুর্গাপূজা হয়, আর সেটা শরত্কালে।
মৃত্যু উমাকে ক্রমশ গ্রাস করে নিচ্ছে। অজানা শঙ্কা ও ঝুঁকি নিয়ে উমার বাবা এগিয়ে আসেন মেয়ের ইচ্ছেপূরণ করতে। সাহস করেই কলকাতা শহরে এপ্রিল মাসে দুর্গাপূজার আয়োজন করতে উমার বাবা উমাকে নিয়ে চলে আসেন কলকাতায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি এই অসাধ্য সাধন হয়? শরত্কালের সেই দুর্গাপূজা কি তবে গ্রীষ্মকালে সম্ভব? মৃত্যুর পূর্বে কি উমার ইচ্ছেপূরণ হয়েছিল? সব প্রশ্নের একটিই উত্তর, উমা চলচ্চিত্র!
এই গল্পটা সবার জন্য। এই চলচ্চিত্রের এতটাই শক্তি, দেখতে বসলেই যে কারো চোখের জল টুপ করে পড়তে বাধ্য! কারণ এই সিনেমা গল্প বলে শহুরে মানুষের, ইট-পাথরের আবেগের! এক নির্মম পৃথিবীর গল্পের দেখা মেলে এই সিনেমায়, যেখানে এক ভেঙে যাওয়া পরিবারের গল্প আছে, যেখানে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি আছে, আছে কট্টরপন্থী অনেক চরিত্র। কিন্তু দিনশেষে এক মৃত্যু পথযাত্রী মেয়ের ইচ্ছেপূরণ সব কীভাবে যেন বদলে দেয়!