প্রবাসী তিন ফুটবলারকে পছন্দ জেমি ডে’র

 স্পোর্টস রিপোর্টার

তিন প্রবাসী ফুটবলারকে মনে ধরেছে বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ জেমি ডের। এখন তিনি এদের মাঠের খেলা দেখতে মাঠেই আনতে চান। প্রবাসী এই ফুটবলাররা আছেন কানাডা, ফিনল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে। তিনজনেরই ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন বাংলাদেশ দলের এই বৃটিশ কোচ।

জেমি ডে বড়দিন এবং নতুন বছরের উত্সব কাটিয়ে গত শুক্রবার সকালে ঢাকায় ফিরেছেন। তাকে দেখে অনেকেই চমকে উঠেছেন। কারণ গুঞ্জন ছিল তিনি আর ফিরবেন না। তাই তিনি নিজেও চমকিত হন গুঞ্জনের কথা শুনে। এই গুঞ্জনের কথা শুনে হেসেই খুন জেমি ডে, বললেন কেন তোমরা এমনটি ভাবো। তারপর নিজেই বললেন লন্ডনে ছিলাম বউ বাচ্চাদের নিয়ে। একান্তে সময় কাটিয়েছিলাম এই কটা দিন। এসব কথা বলেই প্রসঙ্গ বদলে জানালেন তার নতুন বছরের পরিকল্পনা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলা গত শুক্রবার শুরু হয়েছে। সকালে ঢাকায় পৌঁছে বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম গিয়েছিলেন খেলা দেখতে। বেরিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় সেখানে। জেমি ডে জানান তার কাছে তিন জন ফুটবলারের তথ্য রয়েছে। এগুলো দেখে তিনি সন্তুষ্ট। তবে মাঠের পারফরম্যান্স না দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চান না। প্রবাসী ফুটবলাদের শক্তিটাকে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করতে চান।

কারণ জাতীয় দলে এখন যারা খেলছেন তাদের শক্তি যথেষ্ট নয়। তাই লন্ডনে ছুটি কাটাতে গিয়েও কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার পাওয়া যায় কিনা, সেটা খুঁজেছেন তিনি। কানাডা, ফিনল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের প্রবাসী ফু্টবলারদের ঢাকায় আসতে বলতে চান কিন্তু এখন জাতীয় দলের অনুশীলন নেই।

এই ফুটবলাররা আসলেও তাই বসে থাকতে হবে। কোচ অবশ্য ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় দলের প্রস্তুতি শুরু করার কথা ভাবছেন। কারণ মার্চে বাহরাইনে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই রয়েছে।  তার আগে মার্চে কম্বোডিয়ার  বিপক্ষে তাদের মাঠে ফিফার প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। তারপরও বাহরাইন যাওয়ার আগে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে চান কোচ। অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলের প্রস্তুতির জন্য দশ বারো দিন সময় চান তিনি।

জাতীয় দলের স্ট্রাইকার সুফিল ক্লাব ফুটবলে খেলছে ডিফেন্স লাইনে। কথাটা শুনে কোচ বললেন, ‘এটার পজিটিভ দিকটা দেখ। আরেকটি পজিশনে উন্নতি হচ্ছে। স্ট্রাইকার মতিন মিয়া একাদশে না খেলেও গোল পাচ্ছেন শুনে খুশি কোচ জেমি। কোচ বললেন, একাদশে খেলতে পারলে ভালো হতো।’  

আনিসুর রহমান জিকো জাতীয় দলের তৃতীয় গোলকিপার হয়েও এবার স্বাধীনতা কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যন্স করেছেন।  তার কথা শুনেই খুশি হয়েছেন জেমি। তবে তিনি আভাস দিয়েছেন এশিয়ান গেমস দলে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে কিছু ফুটলার বাদ পড়বেন। জেমি বললেন, ‘আমি ঢাকায় এসেছি লিগ শুরুর দিনেই। কারণ দেখতে চাই কে কি করছে।’

জেমির হাতে ফুটবল মাঠের ডিজাইন করা প্যাড দেখিয়ে বললেন, ‘এখানে সব কিছু টুকে নিচ্ছি। কে কি খেলছে। কেমন হচ্ছে, কার কোথায় সমস্যা রয়েছে। পারফরম্যান্স উন্নতি করতে হলে কি করতে হবে সবই লিখে নিচ্ছি। আমি খেলোয়াড়দের জানিয়ে দেব। তারা যদি নিজেকে শুধরে নিতে পারে তাহলে আমার অনুশীলনেও ডাকব। তবে কেউ যদি সিরিয়াস না থাকে তাহলে তার কপাল পুড়বে। আমার কিছু করার নেই।’