‘এসো মিলি প্রাণের উত্সবে’—প্রতিপাদ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী নবান্ন উত্সবের সমাপনী অনুষ্ঠান আজ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুল তলায় শুরু হয় এই উত্সব। অগ্রাহয়ণের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনকে ঘিরে দুইদিনের এই অনুষ্ঠান সাজানো হয়। ২০তম নবান্ন উত্সব-১৪১৮ এর আয়োজন করে জাতীয় নবান্নোত্সব উদযাপন পর্ষদ। অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে নবান্নের উত্সবে মুখরিত হয় চারদিক। এবার ঢাকার বাইরে থেকে এসেছে সংযাত্রা, লাঠিখেলা। থাকছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নৃত্য।
এই নবান্ন উত্সব উদ্বোধন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে নবান্নের কথা বলেন আয়োজক পর্ষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম। কথনে আরো অংশ নেন ল্যাব এইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন পর্ষদের চেয়ারপারসন লায়লা হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন সুজিত মোস্তফা, আবদুল ওয়াদুদ, আবু বক্কর সিদ্দিক, বিশ্বজিত্ রায়। দলীয় সংগীত ও নৃত্যে অংশ নেন, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, ধৃতি নৃত্যালয়, আচিক, নটরাজ, নৃত্যজন ও আরো অনেকে।
প্রথম পর্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নানা সাজের আনন্দ শোভাযাত্রা চারুকলার বকুলতলা থেকে টিএসসি হয়ে আবার ফিরে চারুকলায় এসে শেষ হয়।
প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকাল ৩ টায়। অনুষ্ঠানে ঢাক-ঢোল, বাউল গান, পটগান ও সম্মেলক গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে ক্রান্তি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, উদয়ন, উজান, সুরতাল শিল্পীগোষ্ঠী অংশ নেয়। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে বাফা, পুস্পাঞ্জলি, কলাকেন্দ্র, বেনুকা একাডেমি। একক আবৃত্তি করেন ফয়জুল আলম পাপ্পু। একক সংগীত পরিবেশন করেন রোকাইয়া হাসিনা, নাসিমা শাহীন ফেন্সি, টুম্পা সমদ্দার, আরিফ রহমান, মামুন জাহিদ, আখি বৈদ্য, আবিদা সেতু, আশিকুর রহমান, তানজিনা তমা, ফেরদৌসি কাকলী, নাহিয়ান দূরদানা সুচি, মাহজাবীন শওিলী, দেবু প্রসাদ, দেবপ্রসাদ, মারুফ হোসেন, প্রলয় সাহা, তুষার চন্দন প্রমুখ।
উত্সবের দ্বিতীয় দিন আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশু প্রহর ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে ২২টি শিশু সংগঠন তাদের নিজ নিজ পরিবেশনায় অংশ নেবে। একই সঙ্গে শিশুরা উত্সব প্রাঙ্গণে দিনভর চিত্রাঙ্কনে অংশ নেবে। তাদের আঁকা ছবিগুলো নিয়ে উত্সবে প্রদর্শনী চলবে।