নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সোচ্চার হোন

আমরা নারী স্বাধীনতার যুগে বাস করছি। পূর্বে নারীর কাজের পরিধি ও সীমা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে নারীর বিচরণ সর্বক্ষেত্রে। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় নারী তার যোগ্যতার প্রমাণ দেখিয়েছে। তবু একটা জায়গায় নারী খুবই অসহায়। নারী স্বাধীনতার এই যুগে নারী সকল স্বাধীনতা ভোগ করলেও নারীর নিরাপত্তা আজও হুমকির মুখে। একুশ শতকের ঝলমলে দিনেও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন। এখনো প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারী অরক্ষিত।

প্রতিদিনই নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে শত শত নারী, শিশু। নির্যাতনের ঘটনার যতগুলো আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি তার চেয়েও বেশি হয়তো আমরা জানতে পারি না। শঙ্কায়, সম্মান ও পারিবারিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে নির্যাতনের ঘটনা লুকিয়ে রাখেন অনেক নারী। দিন দিন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলছে। আর আমরা অনেকটা সয়ে নিয়েছি অনাচারের এই উদ্ভট নর্তন-কুর্দন। নতুন বছরের প্রথম ১০ দিনে ধর্ষিত হয়েছে ২২ জন নারী।

এই তালিকায় আছে চার সন্তানের মা, নববধূ, কিশোরী এমনকি অবুঝ শিশু। এক মায়ের ধর্ষণের ঘটনায় হুমকির সম্মুখীন চার শিশুর ভবিষ্যত্। যে মেয়েটির নতুন বিয়ে হয়েছিল সেও স্বপ্ন দেখেছিল একটি সুন্দর সংসারের! যে শিশুরা এখনো অনেক কিছুই বুঝে ওঠতে পারেনি তাদেরও পাশবিকতার বলি হতে হলো। আর আমাদের তনু-রুপারা তো হারিয়ে যায় চিরতরে। এই খবরগুলো যখন পত্রিকার পাতায় দেখি তখন নিজের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হয়। মনে হয় ক্রমান্বয়ে আমরা বর্বরতার দিকে ফিরে যাচ্ছি।

গত বছর ২৫ নভেম্বর নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।’ এই অপরাধ এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মানবতা শব্দটিই লোপ পাবে। আর কোনো নির্যাতনের ঘটনা যেন আমাদের শঙ্কিত না করে। নারীর পথচলা যেন বাধাহীন হয় সেজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।  

সমাজের প্রতিটা সদস্যের মত নারীও সমাজের সকল সুফল-কুফল ভোগ করে। সমাজের প্রতি নারীরও দায়িত্ব, কর্তব্য ও দায়বদ্ধতা আছে। নারীর মন-মানবিকতা সবই আছে। তাই সেও চায় সমাজের জন্য কিছু করতে। কিন্তু যে-সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত নয় সে-সমাজে নারী কিভাবে অন্যের অধিকার নিয়ে কাজ করবে।

নারী জাগরণের পথিকৃত্ বেগম রোকেয়া সমাজের দুটি চাকার একটি বলেছেন নারীকে। এভাবে যদি একটি চাকাকে বিকল করে দেওয়া হয় তাহলে সমাজের অগ্রগতিও থমকে যাবে। নারী মা, নারী মেয়ে, নারী বোন, নারী প্রিয়তমা স্ত্রী। আপনার স্ত্রী, বোন, মেয়ে না থাকতে পারে কিন্তু আপনি অবশ্যই মায়ের সন্তান। মনে রাখতে হবে নারী এগিয়ে গেলেই দেশ এগোবে। তাই আসুন সবাই নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সোচ্চার হই।

n লেখক: শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়