গোপালগঞ্জের গ্রামে দোকান, বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, আতঙ্ক

গোপালগঞ্জে জ্বিনের কাণ্ড বলে প্রচার চালিয়ে রাতে বাড়ি ও দোকান ঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। গত এক মাসে জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের ২টি দোকানঘরসহ ৬টি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কারা, কেন এমনটি করছে তা বলতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করছেন, তাদের কোন শত্রু নেই। তারপরও ঘটছে অগ্নিসংযোগের ঘটনা।

ওই গ্রামের আনোয়ার শেখের বাড়িতে এক রাতেই তিন বার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অন্য আরো ৫টি দোকান ও বসতঘরে এমন ঘটনা ঘটেছে। গ্রামে পাহারা বসিয়েও অগ্নিসংযোগকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই সুযোগে এসব কর্মকাণ্ড জ্বিন সংঘটিত করছে বলে চাউর করা হচ্ছে।

এ ঘটনাকে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড বলে আখ্যা দিয়েছেন গ্রামের সচেতন মহল। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। এ পর্যন্ত ওই গ্রামের সিরাজুল মুন্সীর ছেলে ছাবু মুন্সীর (৫০) ঘর, সাদেক মুন্সীর ছেলে হাসান মুন্সীর(৬০) দোকান ঘর, সামসুল মুন্সীর ছেলে লিটন মুন্সীর(৪০) দোকান ঘর, মৃত আবুল শেখের ছেলে আনোয়ার শেখ(৪৫)-এর বসতঘর এবং মৃত আবুল শেখের ছেলে মনিরুজ্জামান শেখের(৩২) ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক লিটন মুন্সি বলেন, আমাদের গ্রামে এতদিন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় ছিল। হঠাত্ কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসব ঘটাচ্ছে বলে আমার ধারণা। আমার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমার পাশের দোকানদার হাসান মুন্সীর দোকানও পুড়িয়ে দিয়েছে ওই চক্র। আমরা এখন অজানা অতংকে দিন কাটাচ্ছি।

ওই গ্রামের আনোয়ার শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম(৩৩) বলেন, গত ৫ জানুয়ারি রাতে হঠাত্ আমার ঘরে আগুন দেওয়া হয়। কে বা কারা আগুন ধরিয়েছে আমরা দেখতে পরিনি। আমাদের বাড়িতে ওইদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত তিনবার আগুন দেওয়া হয়। এলাকায় আমাদের কোন শত্রু নেই। কেন যে আমার ঘরে আগুন দিলো, তা বুঝতে পারছি না।

ক্ষতিগ্রস্থ শংকরপাশা গ্রামের মিলন শেখের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৮) বলেন, রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। রাতে আমরা ঘুমাতে পারিনা।আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।

ক্ষতিগ্রস্ত ছাবু মুন্সী বলেন, রাতের আঁধারে আমার গোয়াল ঘরে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে মসজিদের মাইকে লোকজন ডাকা হয়। এলাকাবাসী পানি দিয়ে আগুন নিভায়। এরপর থেকে আমরা আতংকে আছি।

রাতইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল ইসলাম আঞ্জু বলেন, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে কেউ কেউ সেটিকে জ্বিনের কাণ্ড বলে চালাতে চাইছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ না দিলেও আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। দোষী যে বা যারাই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।