নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঘুমধুমের তুমব্রু খালে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়া ঘেষে পাকা পিলার নির্মাণের ঘটনা নিয়ে এপারে বসবাসরত গ্রামবাসী ও কোণার পাড়া আশ্রয় শিবিরে ঠাই নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিরাজ করছে অজানা উত্কণ্ঠা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখির পর গত সোমবার কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এস এম বায়োজিদ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সীমান্ত খালের উপর কি জন্য পিলার তোলা হচ্ছে তার জবাব চেয়ে বিজিপিকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু গতকাল শনিবার পর্যন্ত ওই চিঠির কোন জবাব দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বিজিবি সেক্টর কমান্ডার।
ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খাইরুল বশর জানান, মিয়ানমার আসলে পিলার তুলে পাকা সেতু নির্মাণ করছে। সেখান থেকে ২শ গজ দূরে তার বাড়ী। সেখানে রয়েছে তার প্রায় ১২ কানি জমি। এর আগে যখন থেকে মিয়ানমার কাঁটা তারের বেড়া ঘেষে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করে, তখন থেকেই প্রতি বর্ষা মৌসুমে তুমব্রু এলাকা পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। এখন বিজিপি সদস্যরা যে সেতুটি নির্মাণ করছে সেটির কাজ শেষ হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে অসংখ্য পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্রে চলে যেতে হবে। একই কথা বললেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ ছিদ্দিকী। তিনি বলেন, মিয়ানমার চাইছে কোনার পাড়া এলাকায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরিয়ে দিতে। কিন্তু তাদের সরাতে গিয়ে গোটা ঘুমধুম ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এ নিয়ে এলাকায় সাধারন মানুষের মাঝে বিরাজ করছে আতংক।
কোণার পাড়া রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্যরা তাদেরকে কোণার পাড়া নো ম্যান্স ল্যান্ড থেকে তাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তুমব্রু খালে বাঁধ দিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে। কক্সবাজার বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এস এম বায়োজিত খান বলেন, এখনো মিয়ানমারের পক্ষ থেকে চিঠির জবাব দেওয়া হয়নি। তারা সেতুর কাজ অব্যাহত রেখেছে।