সম্ভাবনাময় পাথরঘাটা

বঙ্গোপসাগরের তীরের জনপদ পাথরঘাটা। বরগুনা জেলার অন্তর্গত। সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন টেংরাগিরি বনাঞ্চল আছে এখানে। পাথরঘাটার দর্শনীয় স্থান—লালদিয়া সমুদ্র সৈকত, হরিণঘাটা বনাঞ্চল, বিহঙ্গ দ্বীপ। একদা এখানকার মানুষের মধ্যে ছিল লোকসংস্কৃতির চর্চা। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে তা হারিয়ে গেছে। পাথরঘাটার পূর্ব নাম বাধাঘাটা। জনশ্রুতি আছে, এ জনপদের অভ্যন্তরে বিদ্যমান পাথরের অস্তিত্ব থেকেই পাথরঘাটা নামকরণ। জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রাম মাইজভাণ্ডার শরীফ থেকে বাগেরহাটের খান জাহান আলী নদীপথে অলৌকিকভাবে বাগেরহাটে পাথর ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশখালী এবং বলেশ্বর নদীর মোহনায় এক রাতের জন্য ঘাঁটি স্থাপন করেছিলেন। ঐ পাথরের কিয়দংশ এখানে রয়ে যায়, সে কারণেই এলাকাটি পাথরঘাটি নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে যা হয়েছে পাথরঘাটা। এ অঞ্চলে এখনো মাটির নিচে পাথরের সন্ধান মেলে, যে কারণে এখানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হয় না। পাথরঘাটা হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা