মার্কিন তুলা ও এমএমএফ ব্যবহারকারী পোশাকের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১৯:২৩

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মান্যবর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির ধারা ৫.৩ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত ধারার আওতায় বাংলাদেশ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু (Man-Made Fibre-MMF) ব্যবহার করে তৈরি পোশাক উৎপাদন করে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, তবে সেই পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা লাভের কথা। এই সুবিধা কার্যকর হলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা একদিকে যেমন অধিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও এমএমএফ রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিটিএমএ সভাপতি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে আগ্রহী হলেও প্রত্যাশিত সুবিধা বাস্তবায়নে বিলম্ব বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

এদিকে, বিষয়টির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আগামী ২৪ ও ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে বিটিএমএ’র সঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং United States Trade Representative (USTR)-এর প্রতিনিধিদের পৃথক দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশা করছে, এসব বৈঠকে চুক্তির ধারা ৫.৩ বাস্তবায়নের রূপরেখা ও করণীয় বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সুবিধা কার্যকর করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে।

বিটিএমএ’র মতে, মার্কিন তুলা ও এমএমএফভিত্তিক একটি সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা শুধু বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টেকসই, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইত্তেফাক/এএম