পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীর আতাই ঘাটে সেতু নির্মানের দাবি দীর্ঘদিনের। সেতুর অভাবে পীরগঞ্জ ও নদীর ওপারের বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে।
জানা যায়, এলাকার আদিবাসী বেকার যুবক সাগ্রাম ও মাইকেল সর্বসাধারণের নদী পারাপারে দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে নদীর ওপর একটি সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে তারা নিজের ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে নদীর ওপর ১২শ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। এই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কিষাণ-কিষাণী, ব্যবসায়ীসহ দুই উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে কৃষি পণ্য পরিবহন ও অন্যান্য ভারি যানবাহন চলাচল সম্ভব না হওয়ায় এপারের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সপ্তাহের সোমবারে পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ হাটে নিতে পারেন না। একইভাবে বোচাগঞ্জ উপজেলার নদী অববাহিকার বাসিন্দারা রবিবার ও বুধবার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাটে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছে না।
এছাড়া আতাই ঘাটের পূর্বাংশে প্রতিবছর স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দুই উপজেলার কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী স্নানোৎসব পালন করতে আসেন।
সরজমিনে দেখা যায়, বাঁশের সাঁকোর নির্মাতা সাগ্রাম ও মাইকেলসহ বেশ কয়েকজন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারের জন্য জনপ্রতি ৫ টাকা ও বাইসাইকেল সহ ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেল পারাপারে ১৫-২০ টাকা নিচ্ছেন। তাই এলাকাবাসীর দাবি একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের। সেতুটি নির্মিত হলে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তি কমবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জাবরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবীর জানান, ‘ভরা বর্ষা মৌসুমে নৌকার দিয়ে যাতায়াত করে দুই উপজেলার মানুষ। নদীর আতাইঘাটে সরকারি অর্থায়নে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতে সুবিধার পাশাপাশি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।’
আরও পড়ুনঃ ডোমারে দুই সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার
সেতু নির্মাণের বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন জানান, ‘নদীর অবস্থান পীরগঞ্জ উপজেলায় হলে আমরা সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর নদীর অবস্থান যদি বোচাগঞ্জ উপজেলায় পরে তাহলে বিষয়টি বোচাগঞ্জ উপজেলা কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখতে হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু