তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। এ রায়ের ফলে শহিদুল আলমের কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ যে এজাহার দাখিল করেছে সেটার সঙ্গে আল-জাজিরাতে দেওয়া শহিদুলের সাক্ষাত্কারে কোনো মিল নেই। রিমান্ডে থাকাকালীন স্বীকারোক্তিমূলক কোনো জবানবন্দিও দেননি তিনি। মামলাটি তদন্তাধীন এবং জামিন আবেদনকারীর বয়সও বিবেচনায় নিয়েছে আদালত। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে করা আন্দোলনে ফেসবুক লাইভে এসে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গত ৫ আগস্ট রাতে শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওইদিনই তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে নেওয়া হয় রিমান্ডে। রিমান্ড শেষে পাঠানো হয় কারাগারে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত শহিদুলের জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন চান তিনি। গত ৭ অক্টোবর বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। রুলে শহিদুল আলমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এই রুলের ওপর কিছুদিন শুনানির পর গত পহেলা নভেম্বর মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই এই আলোকচিত্রীর আইনজীবীরা বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে রুল শুনানি করেন। শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও ব্যারিস্টার জ্যেতির্ময় বড়ুয়া অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ। পরে শহিদুলের স্ত্রী অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট।