বিপিএল সিলেট পর্ব
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
বোলাররা শুরু থেকেই দাপট দেখাচ্ছিলেন।
এখন পর্যন্ত এবারের বিপিএলের সেরা চার বোলারই বাংলাদেশি। সে তুলনায় ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিলো। ঢাকা পর্বে দেশি তারকারা যেনো রান পেতেই ভুলে গিয়েছিলেন। একে একে ১৪টি ম্যাচ হয়ে গেলো ঢাকায়। পঞ্চাশ পার করতে পারলেন কেবল তিন জন ব্যাটসম্যান। মনে হচ্ছিলো, এবার বিপিএলটা দেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য একটা হতাশার নাম হতে যাচ্ছে।
অবশেষে হতাশার অন্ধকারটা কেটে গেছে। বাংলাদেশের তারকা ব্যাটসম্যানরা সিলেটে গিয়ে রানের ধারায় ফিরে এসেছেন। সিলেটে অনুষ্ঠিত ৮টি বিপিএল ম্যাচের বড় প্রাপ্তি এটাই— দেশি তারকারা ফিরেছেন রানে। আর এই রানে ফেরায় সন্তুষ্ট জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলছিলেন, তিনি এই তারকাদের কাছ থেকে সব ধরনের উইকেটেই রান দেখার অপেক্ষায় আছেন।
ঢাকায় প্রথম পর্বে বিপিএলে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ১৪টি ম্যাচ। সেখানে জাতীয় দলের দুই তারকাসহ মাত্র তিনটি ফিফটি এসেছিলো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে। দেশি তারকাদের মধ্যে প্রথম ফিফটি পেয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর রনি তালুকদার ও মুশফিকুর রহিম করেন একটি করে ফিফটি। তখন ব্যাটসম্যানদের সেরা দশে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিলো।
কিন্তু সিলেটে চিত্রটা বদলে গেছে। এখানে ৮ ম্যাচে বাংলাদেশের ৮ জন ব্যাটসম্যান পঞ্চাশ পার করা ইনিংস খেলেছেন। মুশফিক এই সিলেটে এসে এবার বিপিএলে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি পেয়েছেন। সাব্বির রহমান রুম্মন এখন পর্যন্ত এবার আসরে যে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ, ৮৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। এ ছাড়া ৭০ বা তদূর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। এ ছাড়াও ফিফটি করেছেন সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইয়াসির আলী।
একটা উল্লেখযোগ্য দিক হলো- এখন পর্যন্ত এবারের বিপিএলে ১১টি দেশি ব্যাটসম্যানদের ফিফটির মধ্যে ৯টিই এসেছে জাতীয় দল ও এর আশেপাশে থাকা খেলোয়াড়দের ব্যাট থেকে। জাতীয় দলের আশেপাশে নেই এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে পঞ্চাশ পার করেছেন কেবল ইয়াসির ও রনি।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের এই রানে ফেরাটা বেশ সন্তুষ্ট করেছে প্রধান নির্বাচক নান্নুকে। তিনি বলছিলেন, তারা এমনটাই আশা করেন দেশি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে, ‘জাতীয় দলের ছেলেরা রানে আসাটা আমাদের জন্য সুখবর। আমরা এটারই অপেক্ষা করছিলাম। তুলনামূলক তরুণরা রান পেলে আরও ভালো লাগতো। আমরা যেমনটা বলেছি যে, ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখতে হবে এই টুর্নামেন্টকে। ফলে এখানে দেশি খেলোয়াড়রা যতো ভালো করবে, আমাদের জন্য ততোই ভালো।’
নান্নু অবশ্য ঢাকা ও চট্টগ্রামেও এই রানের ধারা দেখার অপেক্ষায় আছেন। ঢাকায় সেভাবে রান না হওয়া এবং সিলেটে রানে ফেরা সম্পর্কে বলতে গিয়ে নান্নু বলছিলেন, ‘সিলেটে উইকেট ছিলো আমাদের ব্যাটসম্যানদের যেটা পছন্দ, সেরকম। বল দারুণ ব্যাটে এসেছে, রান করা সহজ হয়েছে; কিন্তু আমি এদের কাছ থেকে ঢাকায়ও রান দেখতে চাইবো। কারণ আপনাকে এই ফরম্যাটে ভালো করতে হলে সব ধরনের উইকেটেই রান করতে জানতে হবে। আশা করি তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামেও রান করার এই গতিটা ধরে রাখবে।’