ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন ও কিছু প্রশ্নের জবাব

১১-১২ জানুয়ারি ২০১৯ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এবং বাংলাদেশের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন’ শীর্ষক দুইদিনব্যাপী বিশেষ সম্মেলনে শতবর্ষী ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ এর ওপর ১৮টি পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরা হয়েছে।  এ সম্মেলনে বারবার একটি কথা উঠে এসেছে সেটি হলো পরিকল্পনাটি ডাচ্ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে করা হয়েছে। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সকলেই জানেন, বাংলাদেশে পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনার শুরু ডাচদের কারিগরি সহায়তার হাত ধরেই, ৫০ এর দশকের শেষ হতে। প্রায় সময়ই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার যে কোনো ব্যর্থতায় বিদেশি পরামর্শকদের কথা উল্লেখ করা হয়। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, এদেশের পানিসম্পদসহ অন্যান্য খাতের ব্যর্থতায় ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা  ও রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতিই মূল কারণ। আমাদের নিজস্ব কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবকে মোটাদাগে সবসময় পরামর্শকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়াটা যথার্থ নয়। নেদারল্যান্ডস্ এর পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা সারা পৃথিবীতেই তাদের প্রযুক্তিগত যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ রেখে চলেছেন। শুধু নিজের দেশের সুষ্ঠু ও বিস্ময়করভাবে সফল পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাই নয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশে ডাচদের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জ্ঞান ও কারিগরি উত্কর্ষ দ্ব্যর্থহীন প্রমাণিত। সে জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স এর বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনায় ডাচ্ বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করেছেন। নিউইয়র্ক শহরকে বন্যামুক্তকরণ প্রকল্পে সহায়তা করেছেন ডাচ প্রকৌশলীরা। জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা এমন একটি বিষয় যার ব্যবহার, অনুকরণ বা অনুসরণ করে নিজেদের মতো উপযোগী করে ব্যবহারে কোনো অসুবিধা আছে বলে মনে হয় না। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডাচদের উত্কর্ষ নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের নানা দেশে গৃহীত, ব্যবহূত এবং অনুসৃত হচ্ছে। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে দেশ-কাল-পাত্র নেই। জ্ঞান সমুদ্রে কোন সীমানা বা আইল নেই।  

সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ প্রণয়নে পানি ব্যবস্থাপনায় অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়নি এবং এমনকি এও বলা হয়েছে, এ পরিকল্পনা প্রণয়নে যথেষ্ট গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে জানাতে চাই ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে প্রায় আড়াই বছর সময় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যোগ্যতম ব্যক্তিদের নিয়ে ২৬টি গবেষণা সম্পাদন করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে মূল পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ সকল গবেষণাপত্র দেশীয় বিষয় সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ গবেষক, পেশাজীবী এবং শিক্ষকদের দ্বারা প্রণীত যা পরবর্তীতে মুক্ত পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামতের ওপর ভিত্তি করে খসড়া প্রণয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর এ খসড়া এ প্রকল্পের কারিগরি পরামর্শক কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। ২৬ সদস্য বিশিষ্ট এ পরামর্শক কমিটি এ সকল গবেষণা ফলাফল পর্যালোচনা করে সমর্থন দেওয়ার পরই কেবল তা গৃহীত হয়েছে। গবেষণা অধ্যয়নগুলো ৬ খণ্ডে পুস্তকাকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা কমিটিতে বুয়েটসহ একাধিক সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় অভিজ্ঞ একাডেমিক, পেশাজীবী, নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ, বনবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জানানো দরকার যে, এ ২৬টি গবেষণাপত্রের অন্যতম একটি হলো ‘Sixty Years of Water Resources Development in Bangladesh: Lessons Learnt’। এ গবেষণাপত্রের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অতীতে যে ভুল ভ্রান্তি হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। ২৬টি গবেষণাপত্র ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয়েছে। সুধীজন ইচ্ছা করলেই এসব গবেষণাপত্র পড়ে নিতে পারেন এবং কোন্ কোন্ বিশেষজ্ঞ কর্তৃক তা প্রণীত হয়েছে তাও জেনে নিতে পারেন। কাজেই, ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ প্রণয়নের পূর্বে যথেষ্ট গবেষণা হয়নি এ কথাটি সত্য নয়।  

সম্মেলনে বলা হয়েছে, ডাচ্ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ষাটের দশকে উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ ও পোল্ডার নির্মাণ করা হয়েছে তাতে স্বল্প মেয়াদে লবণ-পানি মুক্ত হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভূমিতে পলির প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের অনেক নদী মরে গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ প্রণয়নকালে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা এবং মাঠ পরিদর্শনে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এ সমস্যাগুলি বেশিরভাগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যা। অভ্যন্তরে নিয়মিতভাবে পলি অপসারণ, প্রবেশমুখে পলি অপসারণ না করার কারণেই এটা হয়েছে। আর ভবদহের মতো স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণ কি কারিগরি না স্থানীয় কৃষিজীবী ও মত্স্যজীবী জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব্ব এবং সময়ে সময়ে পর্যাপ্ত পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ না করা? পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে গত ষাট বছরে আলাদাভাবে বরাদ্দ আদায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থা কতটা সফল হয়েছে তা অভিযোগকারীরা খতিয়ে দেখতে পারেন। আর এ কারণেই, ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ তে মোট তহবিলের ২০% পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রদানের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া আমাদের দেশেই সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় রক্ষা বাঁধের সাফল্যের বেশ কিছু নজির রয়েছে।

সম্মেলনে অনেকবারই বলা হয়েছে, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়নে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি। কথাটি সত্য নয়। গত বছর ‘বেলা-বেন’ আয়োজিত সম্মেলনে ব-দ্বীপ পরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়াও উপস্থাপন করা হয়েছিল। ডাচ্ বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা, কারিগরি জ্ঞান আমরা আমলে নিয়েছি কিন্তু আমাদের এ পরিকল্পনা সম্পূর্ণ দেশজ পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনা বাংলাদেশের প্রয়োজন ও উপযোগিতা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। খসড়া তৈরি করেছে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও দেশীয় বিশেষজ্ঞগণ। এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মূল উপজীব্য করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদ-নদীর প্রবহমানতা রক্ষা করা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন উন্নয়ন, আন্তঃদেশীয় নদী অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা এ পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরবর্তী বাস্তবায়নে নয়টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ যথা— পানিসম্পদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ; কৃষি; মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য; নৌ-পরিবহন; ভূমি ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সরাসরি যুক্ত ছিল। CE‰IS, IWM, WARPO -এর মতো পানিসম্পদ খাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যক্ষ সহায়তা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের কারিগরি পরামর্শক দল কাজ করেছে।

সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ তে হটস্পট হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সকলের একটি বিষয় বোঝা দরকার শতবর্ষী এ মহাপরিকল্পনাটি বাংলাদেশের পরিকল্পনার ইতিহাসে প্রথম এত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। যেখানে ‘নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তন অভিঘাতসহিষ্ণু সমৃদ্ধশালী ব-দ্বীপ’ গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুদৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে। পরিবর্তনের এরকম একটি জাতীয় মহাপরিকল্পনায় সমগ্র দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। জলবায়ুর প্রভাবভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কথা বিবেচনা করলে দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চল ও মানুষকে সম্পৃক্ত করাটাই যৌক্তিক।

সম্মেলনে প্রশ্ন এসেছে, এ মহাপরিকল্পনাটির দ্বিতীয় খণ্ড (বিনিয়োগ পরিকল্পনা/কর্মসূচি) প্রকাশে বিলম্বের বিষয়ে। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ বিগত এক দশকে জাতীয় পরিকল্পনা, নীতি এবং এসডিজি সংক্রান্ত ৭৮টি পরিকল্পনা দলিল প্রকাশ করেছে। শুধু পরিকল্পনা দলিল প্রণয়নই নয় এর মুদ্রণে জিইডি কখনোই মানের সঙ্গে আপস করেনি। প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার মূল পরিকল্পনা দলিলটি আগামী ৮২ বছরে জাতির মূল উন্নয়ন পরিকল্পনা দলিল হিসেবে ব্যবহূত হবে। কাজেই, এটির মুদ্রণ স্বাভাবিকভাবেই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ইতোমধ্যেই ২য় খণ্ডটি প্রকাশিত হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনার বেইজলাইন সমীক্ষাসমূহ, সংক্ষিপ্ত বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং মূল পরিকল্পনা দলিলের মুদ্রিত কপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্থানে প্রেরণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এ সকল প্রকাশনা বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েব সাইটে রয়েছে। সকল প্রকাশনাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। মূল কপি সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা যাবে।

সম্মেলনে এ মহাপরিকল্পনার বিনিয়োগ কমর্সূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবসমূহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাসমূহ হতে প্রস্তাবকৃত। প্রাথমিক প্রস্তাব প্রাপ্তির পরে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ এর সমন্বয়ে গঠিত দলের সহায়তায় ‘অভিযোজনভিত্তিক ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনা’ কে মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করে Multi Criteria Analysis অনুসরণ করে প্রাথমিকভাবে ২০১৮-২০৩০ মেয়াদে ৮০টি প্রকল্প নির্বাচন করেছে। ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ একটি অভিযোজনভিত্তিক কৌশলী ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা। কাজেই, ২০১৮-২০৩০ মেয়াদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এ ৮০টি প্রকল্পই শেষ কথা নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সদা পরিবর্তনশীল এ প্রেক্ষাপটে এ তালিকায় যে কোনো প্রকল্প সংযোজন ও বিয়োজন হতে পারে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনার নীতিমালা, কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রকল্প গ্রহণ একটি চলমান প্রক্রিয়া।  

সবশেষে বলা প্রয়োজন যে, জাতীয়ভাবে সুবিবেচিত, সমন্বিত ও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল কার্যকর কৌশল অবলম্বন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ন্যায়সঙ্গত সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত এবং অন্যান্য ব-দ্বীপ সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদে পানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে ‘নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তন অভিঘাতসহিষ্ণু সমৃদ্ধশালী ব-দ্বীপ’ গড়ে তোলার জন্যই এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশজ এ মহাপরিকল্পনা অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেশের প্রয়োজন ও উপযোগিতা অনুযায়ী দেশ-বিদেশের সংশ্লিষ্ট সব পেশাজীবী, পরিবেশবিদ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদসহ সব স্তরের অংশীজনের ব্যাপক অংশগ্রহণ, উন্মুক্ত মতামত গ্রহণের মাধ্যমে প্রণীত হয়েছে। জাতীয়ভাবে অনুমোদিত এ মহাপরিকল্পনাটির সফল বাস্তবায়ন শুরু হলেও সময়ে সময়ে প্রয়োজনে এ মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করা হবে। সরকারি-বেসরকারি, দেশীয়-আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণই এর সফলতার মূল চাবিকাঠি। সে কারণে জ্ঞানভিত্তিক যে কোনো মতামতকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের এ সদিচ্ছা অব্যাহত থাকবে। 

n লেখক : সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব), সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন