শহীদ আসাদ এদেশের সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম

গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির সড়ক দ্বীপে শহীদ আসাদ দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ আসাদ এদেশের জনগণের সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। স্বাধীনতা, জাতীয় মুক্তি, গনতন্ত্র আর দেশি-বিদেশি সকল প্রকার শোষণ পীড়নের মুক্তির পতাকায় শহীদ আসাদের নাম উত্কীর্ণ রয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে শহীদ আসাদ স্মরণ সাংস্কৃতিক পর্ষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। গণসংস্কৃতি কেন্দে র সভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আলোচনায় অংশ নেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরি, লেখক সেরাজুল আনোয়ার, বিবর্তনের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লাল্টু, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক       জামসেদ আনোয়ার তপন, চারনের আহ্বায়ক নিখিল দাশ প্রমুখ।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখন শুধু ‘কাজীর খাতায়’। ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক বাণিজ্যিক আগ্রাসন আমাদের আত্মমর্যাদা, ইতিহাস, ভাষা ও চিন্তাকে বিপথগামী করছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে জনগণের মুক্তির সংগ্রামে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণা জোগায়।

অন্যদিকে, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের ৫০ বছর পালন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কমিটির সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, জাতীয় গণফ্রন্ট-এর সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বাসদ মার্কসবাদীর কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম প্রমুখ।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ উপলক্ষে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, চিত্রনায়িকা শাহানুর, মো. মোতাছিম বিল্লাহ’র নেতৃত্বে জোটের নেতৃবৃন্দ শহীদ আসাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

প্রসঙ্গত, আসাদ ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তদানীন্তন পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতনের দাবিতে মিছিল করার সময় ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। মৃত্যুকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এম.এ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা দাবির সপক্ষে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আসামিদের মুক্তি দাবির আন্দোলনে আসাদের মৃত্যু পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে। যা পরবর্তীতে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে। ২০১৮ সালে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য শহীদ আসাদকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।