ফুটপাত, হকার একসঙ্গে দেখতে একরকম অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা । পোশাক ও পণ্য-সামগ্রী বিক্রি করতে কতই না চেষ্টা থাকে তাদের। সে নকম নারায়ণগঞ্জের হকাররাও অভিনব কৌশলে ফুটপাতে দিব্যি দোকান সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগের মতো লুকোচুরি করছেন না হকাররা। কেননা, আগের মতো চৌকি ফেলে আর ব্যবসা করছেন না তারা। ঊর্ধ্বতন অফিসারদের ফুটপাত ফাঁকা দেখাতেও কোনো বেগ পেতে হচ্ছেনা তাদের। ফুটপাত এবং সড়ক যানজট মুক্ত রাখতে পেরে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন হকাররা।
রবিবার (২০ জানুয়ারি) এমন দৃশ্য দেখা গেছে চাষাঢ়া এবং তার আশেপাশের এলাকায়। দশদিন আগে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার চাষাঢ়াকে হকার মুক্ত করার জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন। নির্দেশ দিয়েছেন অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড উঠিয়ে দেওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে শহীদ মিনারের আশপাশের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করেছেন এবং ফের দখলের জন্য সাবধান করেছেন। এরপর থেকেই চাষাঢ়া মোড়ের আশেপাশের হকাররা স্থান ত্যাগ করেছেন। খালি হয়ে গেছে কয়েকটি সিএনজি স্ট্যান্ড।
তবে এখানেই শেষ নয়। হকার এবং সিএনজি স্ট্যান্ড কখনো বসছে আবার পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ তদারকিতে আসলে উঠে যাচ্ছে। এই টানপোড়নের মধ্যে হকাররা আবিষ্কার করেন এক অভিনব পদ্ধতি।
‘দোকান থাকবে কাঁটাতারের ভেতরে আর ক্রেতারা থাকবেন ফুটপাতের উপরে’ এমন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন জিয়া হলের সামনের হকাররা। এখানে ফলের দোকান বসে প্রায় ২০টি। সবগুলো দোকানই জিয়া হলের ভেতরে । বাউন্ডারী দেওয়ালের ভেতরে ফুটপাতের সঙ্গে ঘেঁষে দোকান বসিয়েছেন তারা। আর প্রাচীরের ফাঁকা দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বেচাকেনা করছেন।
আরও পড়ুন: চাঁদের মালিকানা চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া
আরেক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সমবায়ের সামনের হকাররা। তারা ফুটপাতে বস্তা বিছিয়ে ব্যবসা করছেন। উঠে যাওয়ার সংকেত পেলে নিমিষেই বস্তাসহ দোকান সরিয়ে ফেলছেন। কেউ ওড়া বা ঠুপরিতে প্রসাধনী সাজিয়ে বিক্রি করছেন। যাতে কম সময়ে তারা ফুটপাত খালি দেখাতে পারেন।
সুলতান মিয়া জুতার পসরা সাজিয়ে বসেছেন সমবায় এবং সোনালী ব্যাংকের সামনে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সুপার চেয়েছেন যানজট মুক্ত রাখতে। আমরা দোকনদারী করে যদি সড়ক এবং ফুটপাত যানজট মুক্ত রাখতে পারি তাহলে তো সমস্যা নাই! আমরা তাই সেই রকম দোকান বসিয়েছি। যখনি মানুষ দেখি তখনই দোকান গুটিয়ে ফেলি। যাতে মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি না হয়’।
ইত্তেফাক/অনি