জানা-অজানা

পোস্টকার্ড

 

১৮৭০ সালের দিকে অস্ট্রিয়ার ড. ইমানুয়েল হারমানের চিন্তায় আসে পোস্টকার্ডের কথা। পরে গ্রেট ব্রিটেন ১৮৭২ সালে পোস্টকার্ড চালু করে সেই কল্পনার বাস্তব রূপ দেয়। লন্ডনের মেসার্স দ্য লারু অ্যান্ড কোম্পানির নকশাকৃত ও মুদ্রিত এ পোস্টকার্ডের ডানপাশের ওপর দিকে কোণে লালচে বাদামি রঙের একটি ছাপানো টিকিটে মুকুট পরা রানি ভিক্টোরিয়ার মুখচ্ছবি দেওয়া হয়। এর সঙ্গে লেখা ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া পোস্টকার্ড। এক পিঠের সবটা জুড়ে ছিল ঠিকানা লেখার জায়গা। একই বছর দেড় আনা দামের আন্তর্জাতিক পোস্টকার্ড বের হয়। ১৮৮০ সালে প্রথম সার্ভিস পোস্টকার্ডে ‘টু বি ইউজড ফর অফিসিয়াল করেসপনডেন্ট ওনলি’ বাক্যটি লেখা হয়েছিল। ১৮৮৯ সালে পোস্টকার্ডের ইস্ট ইন্ডিয়া পোস্টকার্ড কথাটি থেকে ইস্ট শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। তবে কার্ডের আকারের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সে আকারটি ছিল বর্তমান পোস্টকার্ডের প্রায় অর্ধেক। এটি শুরুর দিককার কথা এবং তখনকার দিনে খামও সমপরিমাণে ছোট ছিল।

১৮৭৯ সালের ১ জুলাই ভারত দেড় পয়সার পোস্টকার্ড ইস্যু করে। পঞ্চম জর্জের আমলে ১৯২২ সালে ভারতীয় পোস্টকার্ডের আকার বাড়ানো হয়। আজো সেই আকার বহাল রয়েছে। একেবারে শুরু থেকেই পোস্টকার্ড মানুষের হূদয় জয় করে নিয়েছে। লন্ডন জেনারেল পোস্ট অফিসে প্রথম পোস্টকার্ড ইস্যুর দিন মানুষের চাহিদা এত ছিল যে, ভিড় সামলানোর জন্য পুলিশের সাহায্য নিতে হয়। বর্তমানে ৩.১ বিলিয়ন রেকর্ড সংখ্যক পোস্টকার্ড গোটা পৃথিবীর মানুষকে এক যোগসূত্রে বেঁধে রেখেছে।