ময়মনসিংহের পরশ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ করেছে প্রসূতির পরিবার। মৃত শিশুটির গাল ও পিঠে কাটার চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ হাসপাতালের তিন পরিচালককে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন- রেজাউল করিম মুরাদ, আজাহার মাহমুদ জুয়েল ও আশরাফুর রহমান।
নবজাতকের বাবা পোশাক শ্রমিক হারুন অর রশিদ জানান, রবিবার রাত ১১টার দিকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তার স্ত্রী জান্নাত বেগমকে নগরীর কৃষ্টপুর আলিয়া মাদরাসা রোডের পরশ প্রাইভেট হাসপাতালে ১৬ হাজার টাকা সাব্যস্থ করে ভর্তি করা হয়। কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই রাত ১২টার সময় সিজারের মাধ্যমে এক মৃত কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় জান্নাত; কিন্তু মৃত ওই সন্তানের পিঠে ও গালে কাটার চিহ্ন ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, সিজার করার সময় ব্লেডের আঘাতে শিশুটির একাধিক স্থানে কেটে যায়। যার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিত্সকের অবহেলায় আমার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আমি তদন্ত পূর্বক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
পরশ প্রাইভেট হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল কবির মুরাদ জানান, প্রচণ্ড প্রসব ব্যথা নিয়ে জান্নাতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পেটের ভেতর ২/১ দিন আগেই বাচ্চা মারা যাওয়ার কথা দাবি করে তিনি বলেন, সিজারের মাধ্যমে চিকিত্সক মৃত বাচ্চা বের করে আনেন। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা নেই।
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. একেএম আব্দুর রউফ জানান, পরশ প্রাইভেট হাসপাতালের সরকারি কোনো রেজিস্ট্রেশন নাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবারের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুবুল আলম জানান, পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাইভেট হাসপাতালের তিন পরিচালককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।