মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল নয়:যুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ পরিকল্পনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএনএইচসিআর’এর মতো যুক্তরাষ্ট্রও মনে করে যে, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল নয়। মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা এবং শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোকদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দেশটিতে অবাধ প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। জেনে-শুনে, নিরাপদে, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত অঙ্গীকার এবং ইউএনএইচসিআর কে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে রাখাকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন (পিআরএম) বিষয়ক উপ সহকারী মন্ত্রী রিচার্ড অলব্রাইট ছয়দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

গত ১০ থেকে ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ সফর করেন তিনি। এর মধ্যে ১১ থেকে ১৩ নভেম্বর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও স্থানীয় কমিউনিটি পরিদর্শন করেন। বিদ্যমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং স্থানীয় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলাই ছিল তার এ সফরের লক্ষ্য। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উদারতার প্রশংসা করেন।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে চলমান সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহায়তা করতে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি  সহায়তা দিয়েছে।

উপ সহকারী মন্ত্রী অলব্রাইট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার গিয়ে সরেজমিন সফরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-ও এ রকম পরামর্শ দিয়েছে। যাতে রোহিঙ্গারা তাদের ছেড়ে আসা গ্রাম ও মিয়ানমারের ট্র্যানজিট স্থাপনাগুলো নিজে দেখে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে স্বজনদের সঙ্গে বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।