খাল উদ্ধার করে ওয়াটার ট্যাক্সি চালানোর পরিকল্পনা

কুতুবখালি খাল পরিচ্ছন্নতা কাজ উদ্বোধন করলেন মেয়র সাঈদ খোকন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, খাল দখলদাররা যে মতাদর্শের লোকই হোক বা যে দলেরই হোক না কেন, আমাদের কাছে সে অবৈধ দখলকারী। কাউকে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমান অবস্থায় যদি কোথাও কোনো ধরনের খাল দখল করার অপচেষ্টা করা হয় তাহলে সব শক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে। গতকাল সোমবার যাত্রাবাড়ী এলাকায় কুতুবখালী খালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাঈদ খোকন বলেন, ডিএসসিসিতে নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ৯৩ কিলোমিটার খালের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৭৪ কিলোমিটার খাল অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করেছে।

সাঈদ খোকন আরও বলেন, আমরা কুতুবখালী খাল পরিচ্ছন্ন করার জন্য এখানে এসেছি। এটাকে ক্ষুদ্র করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের মূল রাজধানী ঢাকা শহরের যেসমস্ত সমস্যাগুলো রয়েছে, সেটা লুকিয়ে আছে আমাদের নব সংযুক্ত ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে। এই ইউনিয়নকে আমরা নগরায়ণের মাধ্যমে মূল রাজধানীর সমস্যা সমাধান করতে পারবো। এখন এই ইউনিয়নগুলোর কী অবস্থা সেটা যদি আমরা পর্যালোচনা করি দেখা যাবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- জলাবদ্ধতা।

ডিএসসিসির মেয়র বলেন, এই পানি সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট এই দায়িত্ব পালন করছে। তার অংশ হিসেবে কুতুবখালী খালের কাজ চলছে। এই খালটি দুই কিলোমিটারের মতো হবে। এখানে ৯৩ কিলোমিটার খাল রয়েছে। এটা দিয়ে আমরা শুরু করছি। পর্যায়ক্রমে সব খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, এই এলাকার কমবেশি ৯৩ কিলোমিটার খাল রয়েছে। এর ৩৪টি খাল রয়েছে যেটা সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন কাজ করছে। যখন খালের স্বচ্ছ পানি নদীতে যাবে তখন এই এলাকায় একটি পরিকল্পিত নগরায়ণ হবে। খালগুলোতে ওয়াটার ট্যাক্সি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বড় একটা সমস্যা হচ্ছে আমরা যখন খাল পরিষ্কার করে যাই এর দুই-তিন সপ্তাহ যেতে না যেতে সেই খাল আবার ময়লা-আবর্জনায় ভরে যায়। বড় বিষয়টি হচ্ছে- আমরা বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা এই খালে ফেলি। অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। আমাদের এটাও চেষ্টা থাকবে নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য কাজ করবো। আমরা একটা সুন্দর ও বাসযোগ্য ঢাকা আগামী প্রজন্মের মধ্যে তুলে দিতে চাই।