সঙ্গীর জন্য পাগলপ্রায় জাতীয় চিড়িয়াখানার কাঞ্চি

সঙ্গীর মৃত্যুর সাত বছর পার হলেও এখনো নিঃসঙ্গতার অবসান ঘটেনি জাতীয় চিড়িয়াখানার নারী গণ্ডার কাঞ্চির। গত বছর কাঞ্চির সঙ্গী হিসেবে আরেকটি পুরুষ গণ্ডার নিয়ে আসার কথা থাকলেও সেটা এখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি করোনার কারণে। 

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় গত সাত বছরে একাধিকবার যারা গিয়েছেন, কাঞ্চি ও বিকল্প সঙ্গী হিসেবে একই খাঁচায় থাকা ভেড়া তাদের কারো চোখ এড়ায়নি। অনেকেই আশ্চর্য হয়েছেন, আবার অনেকে জানতেও চেয়েছেন কেনো হয়েছে এমনটি! পুরুষ সঙ্গী হারিয়ে মৃতপ্রায় কাঞ্চি বেঁচে যায় এই গাড়ল প্রজাতির নারী ভেড়াটির কারণেই।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, একটি গণ্ডার সাধারণত বন্দি অবস্থায় ৩৮ বছর বাঁচতে পারে। এখনো তার জীবনের একটা বিশাল অংশ পড়ে আছে। কাঞ্চির এখন সবচেয়ে উর্বর বয়স চলছে। এই দিনগুলোতে সঙ্গী বেশি করে দরকার। কিন্তু সঙ্গী মারা যাওয়ার পর থেকে অর্থাৎ সেই ২০১৪ সাল থেকে একা-একাই দিন কাটছে কাঞ্চির। সঙ্গীর অভাবে মৃতপ্রায় হয়ে পড়া এ গণ্ডারটির জন্য পরে সাময়িকভাবে একটি তৃণভোজী সঙ্গীর ব্যবস্থা করা হলেও সাত বছর আগে সঙ্গী হারানো কাঞ্চির জন্য করোনার কারণে পুরুষ গণ্ডার জোগাড় করতে পারছেন না কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: বিশ্বের বৃহত্তম ডাইনোসর

দীর্ঘদিন ধরেই কাঞ্চির দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন আব্দুল লতিফ। সঙ্গীর অভাবে প্রায় পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছে কাঞ্চি। প্রায়শই পরিবর্তন হচ্ছে তার মেজাজ। মাঝে মধ্যে খাচ্ছে না, অনেক সময় আবার ভিন্ন আচরণ করছে দীর্ঘদিনের পরিচিত লতিফের সঙ্গেই।

লতিফ জানান, তার মেজাজ ঘন ঘন বদলাচ্ছে। কখনও কখনও সে আমার ডাকে সাড়া দেয় না। এটি মূল কারণ, সে এতো বছর ধরে একা বড় হয়েছে। আমি তাকে বলি, আমরা শিগগিরই তাকে একজন পুরুষ সঙ্গী এনে দেব। তবে সঙ্গীর অভাবে একরকম পাগলপ্রায় সে, তার সঙ্গী দরকার। আমরা জানি, সে কতটা একাকী বোধ করে। তার জন্য উপযুক্ত সঙ্গী কেনার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

কাঞ্চির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে পাকিস্তানের কাভান নামের একটি হাতির কারণে। কাভান তার বাংলাদেশি সঙ্গী সহেলিকে হারিয়ে প্রায় এক দশক নিঃসঙ্গ অবস্থায় দিন কাটিয়েছে। তাকে নিয়ে পাকিস্তানে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর কম্বোডিয়ার একটি অভয়ারণ্যে পাঠানো হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কা সরকার ১৯৮৫ সালে কাভানকে উপহার হিসেবে পাকিস্তানে পাঠায়। ওই সময় তার বয়স ছিল এক বছর। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে সাবেক পাক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়া-উল-হক হাতিটি গ্রহণ করেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি