স্কোর কার্ড অনেক কথাই বলে।
এই ম্যাচের স্কোর কার্ড বলবে, জয়ের নায়ক সেঞ্চুরিয়ান লরি ইভান্স। এমনকি ১০ রানে ৪ উইকেট নেওয়া কামরুল ইসলাম রাব্বিকেও নায়ক মনে হতে পারে। কিন্তু আরও একটা ম্যাচে স্কোরকার্ডের অগোচরে সেরা কাজটা করে গেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের এই পেস বোলারের জাদুকরী বোলিংয়ে পথ হারিয়ে ফেলল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর তাতেই ৩৮ রানের জয় পেল রাজশাহী কিংস।
আগে ব্যাট করা রাজশাহী ইভান্সের সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে তুলেছিল ১৭৬ রান। এটি ছিল এবারের বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি। এরপর জবাব দিতে নেমে খেই হারিয়ে ফেলা কুমিল্লা ১৩৮ রানে অলআউট হয়।
১৭৭ রানের লক্ষ্যে ছুটতে থাকা কুমিল্লাকে মোটামুটি একটা শুরু এনে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান এনে দিয়েছিলেন তারা। তামিমকে নিজের প্রথম শিকার করে ফেরত পাঠান রাব্বি। তার আগে ২৪ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৫ রান করেন তামিম। বিজয় ২৩ বলে ২৬ রান করে ফেরেন। এরপর কুমিল্লার প্রায় সব ব্যাটসম্যান শুরুটা করতে পেরেছেন। কিন্তু কেউ বড় একটা ইনিংস খেলতে না পারায় দলটা আর জয়ের পথে হাঁটতে পারেনি।
১৭ ও ১৮তম ওভারে আসলে ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দেন মুস্তাফিজ ও রাব্বি। সে সময় ২৫ বলে দরকার ছিল কুমিল্লার ৪৫ রান; উইকেটে ছিলেন লিয়াম ডসন ও শহীদ আফ্রিদি। ১৭তম ওভারে মুস্তাফিজ কাটারে নাচিয়ে ফেলেন আফ্রিদিকে; ব্যয় করেন মাত্র ৩ রান। পরের ওভারে রাব্বি এসে তুলে নেন ৩ উইকেট। আর ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে শেষ উইকেটটি নিয়ে খেলা শেষ করে দেন মুস্তাফিজ। রাব্বি ১০ রানে ৪ উইকেট নেন। অন্যদিকে মুস্তাফিজ ৩.২ ওভারে ৮ রান ব্যয় করে নিয়েছেন ১ উইকেট।
এর আগে টসে জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল কুমিল্লা। শুরুতে অন্তত মনে হয়েছিল, এর চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত আর হয় না। মাত্র ২৮ রানেই রাজশাহীর ৩ উইকেট তুলে নেয় কুমিল্লা। ততক্ষণে ওভার চলে গেছে ৬.১টি।
এখান থেকে মহাকাব্যিক জুটি শুরু করেন লরি ইভান্স ও রায়ান টেন ডেশকাট। শুরুতে তারা দু’জনও সে অর্থে রানের চাকা ঘোরাতে পারছিলেন না। ধীরগতিতে ইনিংস তৈরির চেষ্টা করছিলেন দু’জনে। ১৩ ওভার পর্যন্ত এমনই চলেছে। ১৩ ওভার শেষে রাজশাহীর রান ছিল ৭০; ৩ উইকেটেই। আর এখান থেকেই ডেশকাট ও ইভান্স শুরু করলেন ভয়ানক পাল্টা আক্রমণ।
পরের ৭ ওভারে ১০৬ রান তুলে ফেললেন এই দু’জন। মানে শেষ ৭ ওভারে প্রতি ওভারে ১৫-এরও বেশি রান তুলেছেন তারা। ওয়াহাব রিয়াজের করা ১৯তম ওভার থেকে এসেছে ২১ রান।
শেষ ওভার যখন শুরু হলো, তখন ডেশকাট ৪৯ রানে এবং ইভান্স ৯৯ রানে ব্যাট করছেন। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে ডেশকাট সেঞ্চুরি পূরণ করলেন। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ইভান্স হয়ে গেলেন এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। এই সেঞ্চুরিটি ছিল বিপিএলের ইতিহাসের ১৩তম সেঞ্চুরি। এর আগে বিপিএলে যে সেঞ্চুরিগুলো হয়েছে, তার ৫টিই করেছেন একা ক্রিস গেইল।
ইভান্স শেষ পর্যন্ত ৬২ বলে ৯টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১০৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্য প্রান্তে ৪১ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন ডেশকাট। দু’জনে ১৪৮ রানের অপরাজিত জুটি করেছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১৭৬/৩ ( ইভান্স ১০৪*, ডেসকাট ৫৯*; ডসন ৪-০-২০-২)।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৮.২ ওভারে ১৩৮ অলআউট (তামিম ২৫, এনামুল ২৩, আফ্রিদি ১৯, ডসন ১৭; কামরুল ৩-০-১০-৪, ডেসকাট ২-০-১৫-২)।
ফলাফল: রাজশাহী কিংস ৩৮ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: লরি ইভান্স (রাজশাহী কিংস)।
বিপিএলের
প্রথম সেঞ্চুরি
ইভান্স
রান ১০৪
বল ৬২
চার ৯
ছয় ৬