কিংবদন্তী নারীর জীবন সংগ্রামের গল্পে মুগ্ধ দর্শক

পুরো সিনেমা হলে পিনপতন নীরবতা। বাস্তব জীবনের গল্পের সরল বিবরণে কারো চোখ যেন সরে না। এক পর্যায়ে সিনেমা হলে বসে থাকা দর্শকদের অনেককেই চোখ মুছতে দেখা গেল। দর্শকদের অনেকেই সংস্কৃতি অঙ্গনের নামী-দামী মানুষ। তারা অপার মুগ্ধতা নিয়ে দেখলেন এক কিংবদন্তী নারীর জীবন সংগ্রামের গল্প।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনভিত্তিক ‘হাসিনা: আ ডটারস টেল’ তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হলো গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে। সিনেমা পর্দায় যখন শেখ হাসিনা আলো আঁধারীতে বসে স্মৃতিচারণ করছেন তখন মনে হচ্ছে যেন কোনো অবাক করা থ্রিলার গল্প। এত সংগ্রাম একজীবনে কীভাবে করে মানুষ!  কখনও আবার একেবারেই সাধারণ এক নারী হিসেবে ঘরোয়া পরিবেশে তিনি করছেন খুনসুটি!

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্রের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার জীবনের এই গল্প বলার চিত্রায়ন দেখতে দেখতে কখন সময় পার হয়ে যাবে কেউ বুঝতে পারবেন না। এ যেন এক সাধারণ মানুষের অবাক করা জীবন সংগ্রামের গল্প। টানা দুই বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় গল্পটি সেলুলয়েডে তুলে এনেছেন নির্মাতা রেজাউর রহমান খান পিপলু। ছবিটির প্রিমিয়ার শেষে তার চোখটিও ছলছল। পিপলু বললেন, ‘জীবনে বেঁচে থাকার জন্য কিছু স্বার্থকতার প্রয়োজন হয়। আমার স্বার্থকতা এই অসাধারণ কাজটির সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত থাকতে পেরেছি।’

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই ও অ্যাপলবক্স ফিল্মসের যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে এই ডকু ড্রামা। ছবিটির প্রযোজক বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ৭০ মিনিট দৈর্ঘের এই তথ্যচিত্রটি যে কোনো থ্রিলার ছবিকেও যেন হার মানায়। তাই প্রিমিয়ার শো শেষ হতে না হতেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তথ্যচিত্রটি নিয়ে নানা স্ট্যাটাস।

অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘ডকুফিল্মটি দেখে মনে হয়েছে এটি নিয়ে আরো বড় কাজ করা সম্ভব এবং প্রয়োজন। মনে হচ্ছে এতদিন কেন হয়নি। এ এক অসাধারণ একটি নির্মাণ। আর এক জীবনে এত উত্থান-পতন, ভাঙা গড়াসহ এক নিদারুণ বেদনা সইতে পারে একজন মানুষ, তা দেখে বিস্ময় আর মোহাগ্রস্ত হয়ে আছি অনেকক্ষণ।’

অনবদ্য এই তথ্যচিত্র প্রসঙ্গে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী-নির্মাতা জয়া আহসান বলেন, ‘আমরা টোটাল দেবী টিম ছবিটি দেখবো। এ ট্রেলার দেখার পর থেকেই যেন তর সইছে না। আমি বলবো এই তথ্যচিত্র আমাদের দেশের এক অনবদ্য দলিল হয়ে থাকবে। যা দেখে আগামী প্রজন্ম অনুপ্রেরণা পাবে।’ 

আজ থেকে তথ্যচিত্রটি ৪ টি সিনেমা হলে মুক্তি পাবে। এগুলো হলো স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমা, মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হল ও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিন। ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফী করেছেন সাদিক আহমেদ এবং সম্পাদনা করেছেন নবনিতা সেন।